২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারত গড়ার শপথ সংসদ সদস্যদের

নয়াদিল্লি: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে একজোট হলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘এমপি’জ ফর চিলড্রেন’ ব্যনারে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তারা।
সাংসদদের বিশেষ উদ্যোগ বাল্যবিবাহ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারকে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জনপ্রতিনিধিরা। তেলুগু দেশম পার্টির নেতা তথা ‘এমপি’জ ফর চিলড্রেন’-এর আহ্বায়ক লাভু শ্রীকৃষ্ণ দেবরায়ালু জানান, বাল্যবিবাহ কোনো নির্দিষ্ট দল বা ধর্মের ইস্যু নয়। পোলিও নির্মূল বা শিক্ষার প্রসারের মতো সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব।
কঠোর আইনের দাবি বাল্যবিবাহ প্রতিষেধক আইন (PCMA) ২০০৬-কে আরও শক্তিশালী করতে লোকসভায় একটি বেসরকারি বিল পেশ করা হয়েছে। এই বিলে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি, বিশেষ আদালত গঠন এবং ডিজিটাল রিপোর্টিং পোর্টাল তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সের সময়সীমা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
দেশজুড়ে জনসচেতনতা ‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ভুবন ঋভুর নেতৃত্বে দেশজুড়ে ‘বাল্যবিবাহ মুক্তি রথ’ কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের ২৮টি রাজ্যের ৪৩৯টি জেলায় ৫০০-এর বেশি রথের মাধ্যমে সচেতনতা ছড়ানো হয়েছে। এই মহৎ উদ্যোগে শামিল হয়েছেন ১০৪ জন সাংসদসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা। সরকার যাতে দ্রুত ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারত দিবস’ ঘোষণা করে, সেই দাবিও জানানো হয়েছে এই সভা থেকে।
উপস্থিত নেতৃত্ব এই সংলাপে বিজেপি, কংগ্রেস, সপা, টিডিপি, সিপিএম এবং ডিএমকে-সহ বিভিন্ন দলের প্রবীণ ও নবীন সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন।