লক্ষ্মীর ভান্ডার না কি অন্নপূর্ণা যোজনা! ভোট টানতে মহিলাদের পকেটে কার কত টাকা ঢুকছে

তামিলনাড়ু থেকে আসাম এবং বাংলা থেকে কেরল—দেশজুড়ে এখন মহিলা ভোটাররাই রাজনীতির আসল তুরুপের তাস। ক্ষমতা দখলে রাখতে বা ফিরে পেতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই মহিলাদের জন্য ভাতার ডালি সাজিয়ে বসেছে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো এখন ভোট বৈতরণী পার হওয়ার প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তামিলনাড়ুর শাসকদল পরিবারের মহিলাদের মাসে ১০,০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। পালটা বিরোধী শিবির সরকারে এলে মাসিক ২৫০০ টাকা ভাতা, বিনামূল্যে রান্নার জ্বালানি ও বিয়ের গয়না দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আসামের চিত্রটা কিছুটা আলাদা; সেখানে সরাসরি ভাতার পাশাপাশি মহিলাদের স্বনির্ভর করতে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত এককালীন অনুদান এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দরিদ্র মহিলাদের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা নিশ্চিত করেছে সেখানকার সরকার।
পশ্চিমবঙ্গেও লড়াইটা মূলত ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বনাম ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র। শাসকদল যেখানে লক্ষ্মীর ভান্ডারের বরাদ্দ বাড়াতে মরিয়া, সেখানে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অন্যদিকে, কেরল সরাসরি নগদ টাকার চেয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সরকারি পরিবহণে ছাড় এবং বার্ধক্য ভাতার ওপর বেশি জোর দিয়েছে।
তথ্য বলছে, এই চার রাজ্যে প্রায় ১০ কোটিরও বেশি মহিলা ভোটার রয়েছেন। তামিলনাড়ুতে ৩.১ কোটি, পশ্চিমবঙ্গে ৩.৭ কোটি এবং আসামে ১.২ কোটি মহিলা ভোটারের রায় যে কোনো দলের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাই মহিলাদের মন জয়ে এখন ভাতার লড়াই তুঙ্গে।