প্রেমিকের সঙ্গে ড্রাগসের নেশা, মর্মান্তিক মৃত্যু ১৮ বছরের তরুণীর! গ্রেফতার মা, ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লিতে এক বেসরকারি লজ থেকে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর দেহ উদ্ধার ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। ড্রাগের অতিরিক্ত ডোজ (Overdose) নেওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। এই ঘটনায় তরুণীর প্রেমিক, তার বন্ধু এবং—সবথেকে অবাক করার মতো বিষয়—মৃতার নিজের মাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত:
নিহত তরুণীর নাম ইয়াসমিন (১৮)। সে তার প্রেমিক সাদ্দাম হোসেনের (১৯)-এর সঙ্গে তিরুচি জংশনের কাছে একটি বেসরকারি লজে থাকছিল। গতকাল বিকেলে হঠাতই ইয়াসমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং খিঁচুনি শুরু হয়। প্রেমিক সাদ্দাম ও তার বন্ধু শেখ আব্দুল্লাহ দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
পুলিশ লজে তল্লাশি চালিয়ে সিরিঞ্জ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দুজনেই ড্রাগসের নেশায় আসক্ত ছিল। ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে মাদক নেওয়ার সময় মাত্রাতিরিক্ত ওষুধের কারণেই তরুণীর খিঁচুনি হয়ে মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ খুনের চেষ্টার বদলে ‘ড্রাগস ওভারডোজ’ এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে।
তদন্তে বেরিয়ে এল অন্ধকার জগতের কাহিনি:
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এমন কিছু তথ্য পেয়েছে যা এলাকাবাসীকে চমকে দিয়েছে:
- পকসো মামলার ইতিহাস: সাদ্দাম ও ইয়াসমিনের পরিচয় চার বছরের পুরনো। দুই বছর আগে ইয়াসমিন নাবালিকা থাকাকালীন সাদ্দাম তার ওপর নির্যাতন চালায়, যার জেরে তার বিরুদ্ধে ‘পকসো’ (POCSO) আইনে মামলা হয়েছিল এবং সে জেলও খাটে।
- মায়ের ড্রাগ ব্যবসা: ঘটনার সবথেকে বড় টুইস্ট হলো ইয়াসমিনের নিজের মা শাকিলা বেগম! পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শাকিলা বেগমই গোপনে ড্রাগ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
- মায়ের স্টক থেকেই চুরি: ইয়াসমিন তার মায়ের ড্রাগের স্টক থেকেই মাদক চুরি করে প্রেমিকের সঙ্গে লজে গিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশ ড্রাগ ব্যবসার উৎস এবং এর পেছনে আর কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শাকিলা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।