সল্টলেকে গেস্ট হাউসের আড়ালে দেহ ব্যবসা ও পাচারচক্র! উদ্ধার নাবালিকা, গ্রেপ্তার ‘প্রভাবশালী’ ঘনিষ্ঠ ২

সল্টলেকে গেস্ট হাউসের আড়ালে দেহ ব্যবসা ও পাচারচক্র! উদ্ধার নাবালিকা, গ্রেপ্তার ‘প্রভাবশালী’ ঘনিষ্ঠ ২

সল্টলেক: প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ‘ঘনিষ্ঠতা’কে কাজে লাগিয়ে এলাকা জুড়ে তোলাবাজি ও জমি দখলের ভুরি ভুরি অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, গেস্ট হাউসের আড়ালে নারীপাচার এবং নাবালিকাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা চালানোর মতো গুরুতর সামাজিক অপরাধের অভিযোগে শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ল সায়ন দে এবং তার সহযোগী অনির্বাণ। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের (DD) একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SAT) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু সল্টলেকের সুকান্তনগরের একটি গেস্ট হাউস। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন যে, এই গেস্ট হাউসে অনৈতিক কাজকর্ম চলে। এমনকি এক স্থানীয় প্রমোটার সায়নের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক টাকা আদায়েরও অভিযোগ তোলেন। আগে একাধিকবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও তৃণমূল জমানায় ‘প্রভাবশালী’ সুজিত বসুর ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।

তবে সম্প্রতি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরপরই নড়েচড়ে বসে বিধাননগর গোয়েন্দা শাখা। শুক্রবার পুলিশ ওই গেস্ট হাউসে আচমকা তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকজন তরুণী ও নাবালিকাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই তল্লাশির পর অনৈতিক চক্র চালানো ও জমি দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় সায়ন ও অনির্বাণকে।

উল্লেখ্য, সোশাল মিডিয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর সঙ্গে সায়নের একাধিক ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সায়নের বিয়ের অনুষ্ঠানেও সুজিত বাবুর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মন্ত্রীর এই ‘ঘনিষ্ঠতা’কে পুঁজি করেই সায়ন এলাকায় ব্যাপক দাপট দেখাত বলে দাবি স্থানীয়দের।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধাননগর মণ্ডল ২-এর সহ-সভাপতি শান্তনু সরকার জানান, “বর্তমান সরকার যেকোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তাই অপরাধী যা-ই হোক না কেন, পুলিশ কাউকে রেয়াত করেনি।” যদিও ধৃত সায়নের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উল্লেখ্য, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু বর্তমানে অন্য মামলায় জেলবন্দি রয়েছেন এবং এই বিষয়ে তৃণমূলের অন্য কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *