‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬’ নাম দিয়ে WhatsApp-এ চলত NEET-এর প্রশ্ন ফাঁস! CBI চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক: বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে ফুটবলপ্রেমী তরুণদের একটা নির্ভেজাল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। গ্রুপের নাম—’ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬’। কিন্তু আড়ালের সত্যিটা শুনে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় সিবিআই তদন্তকারীদের! দেশের অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ‘নিট ইউজি’ (NEET-UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হয়েছিল এই একটা গ্রুপের মাধ্যমেই।
সম্প্রতি সিবিআইয়ের পেশ করা ২০ হাজার পাতার বিশালাকার চার্জশিটে উঠে এসেছে এই নজিরবিহীন জালিয়াতির রূপরেখা। তদন্তকারীরা জানান, ৮ জন সদস্যের এই বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটির সূত্র ধরেই এনটিএ (NTA)-র চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ পি ভি কুলকার্নি এবং মনীষা মান্ধারের মতো মূল অভিযুক্তদের নাগাল পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এই গ্রুপেই চলত ছদ্মবেশে স্পেশ্যাল বায়োলজি ক্লাসের সময়সূচি, প্রশ্নপত্র মূল্যায়ন ও নম্বর হিসাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
ষড়যন্ত্রের মূল ঘাঁটি পুণের ডেন্টাল ক্লিনিক: পুরো নেটওয়ার্কের মূল যোগসূত্র বা ‘ফ্যাসিলিটেটর’ ছিলেন পুণের মনীষা ওয়াঘমারে। এনটিএ-র অনুমোদিত অনুবাদক ও প্রুফরিডার হওয়ার সুবাদে, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কুলকার্নি ও মান্ধারের যোগাযোগ করিয়ে দিতেন তিনিই। শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেওয়া হতো, এই বিশেষজ্ঞদের ‘বিশেষ ক্লাসে’ যে পড়া করানো হবে, সেখান থেকেই হুবহু মিলবে নিটের প্রশ্ন! মনীষার স্বামীর পুণের ডেন্টাল ক্লিনিকটিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল প্রশ্ন টাইপ ও আদান-প্রদানের মূল আস্তানা। সেখান থেকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজির ফাঁস হওয়া প্রশ্নের ডিজিটাল কপি উদ্ধার করেছে সিবিআই।
লাল কালির চিহ্ন ও হুবহু প্রশ্নের মিল: চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর এবং এ বছরের মার্চ-এপ্রিল—দুটি ধাপে পুণের নিজের ফ্ল্যাটে গোপন ‘অফলাইন রিভিশন ক্লাস’ চালাতেন মনীষা মান্ধারে। সেখানে এনসিইআরটি (NCERT) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের কিছু অংশে লাল কালির দাগ দিয়ে মার্জিনে প্রশ্ন লিখিয়ে দেওয়া হতো শিক্ষার্থীদের। এরপর আলাদা ফেয়ার খাতায় সেই উত্তর তৈরি করে নিজে তা সংশোধন করে দিতেন তিনি। একইভাবে, রসায়ন বিশেষজ্ঞ পি ভি কুলকার্নিও নিজের বাড়িতে দু’টি ব্যাচে কেমিস্ট্রির ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে স্পেশাল কোচিং করাতেন।
পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের ওই গোপন নোটবইয়ের সাথে আসল নিট-ইউজির প্রশ্ন মেলাতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের—দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি প্রশ্নই ছিল হুবহু এক!
হাতে লেখা প্রশ্ন ও টানা গ্রেফতারি: তদন্তে ‘NEET 2026’ নামে আরও একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। এছাড়া টাকার বিনিময়ে ৬৬টি হাতে লেখা ফিজিক্সের প্রশ্ন ফাঁস করার অভিযোগে মনীষা হাবালদার নামের আরেক বিশেষজ্ঞকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পর গত ১৫ ও ১৬ মে সিবিআই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। এনটিএ-র গোপনীয়তার নীতি উড়িয়ে দিয়ে কীভাবে সরকারি পদের অপব্যবহার করে প্রশ্ন বিক্রির বিশাল কারবার চালানো হচ্ছিল, চার্জশিটে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।