ইরানের মরণফাঁদে পা দিচ্ছে আমেরিকা! ট্রাম্পের জেদে কি ধ্বংস হবে মার্কিন ফৌজ

নিউজ ডেস্ক । তেহরানকে কবজা করতে গিয়ে কি মহাভারতের অভিমন্যু হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেনা? পেন্টাগনের অন্দরে এখন এই প্রশ্নই সবথেকে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানকে দমানো আসাম্ভব বুঝে এবার সরাসরি স্থল অভিযানের ছক কষছে ওয়াশিংটন। আর এই হঠকারী সিদ্ধান্তই আমেরিকার জন্য কাল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক থেকে শুরু করে পেন্টাগনের পদস্থ আধিকারিক— সবার চোখেই এখন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সেই ভয়াবহ স্মৃতি। ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে। এই লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিও সারা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে ইরানের ভৌগোলিক পরিবেশ নিয়ে। দুর্গম পাহাড় আর অচেনা অলিগলিতে মার্কিন স্যাটেলাইট কতটা কাজ করবে, তা নিয়ে সন্দিহান খোদ সেনেটররা।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানে স্থল অভিযান মানেই সরাসরি ‘নগর যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়া। যেখানে ভারি ট্যাঙ্ক বা মিসাইল ব্যবহার করা কার্যত আসাম্ভব। উল্টে নিজেদের চেনা জমিতে ড্রোন আর চোরাগোপ্তা হামলায় মার্কিন বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করতে পারে ইরান। অতীতে আফগানিস্তান, ইরাক কিংবা ভিয়েতনামেও একই ভুল করে চরম খেসারত দিতে হয়েছিল হোয়াইট হাউসকে। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বর্তমান শোচনীয় অবস্থাও ট্রাম্পের এই ‘হুজুগে’ সিদ্ধান্তে বড় সতর্কতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে ইরানের সাজানো চক্রব্যূহে মার্কিন সেনার দশা শেষ পর্যন্ত অভিমন্যুর মতো হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।