FIR-এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নামের আগে নেই ‘মাননীয়’ সম্বোধন, ক্ষুব্ধ এলাহাবাদ হাইকোর্ট চাইল ব্যাখ্যা

FIR-এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নামের আগে নেই ‘মাননীয়’ সম্বোধন, ক্ষুব্ধ এলাহাবাদ হাইকোর্ট চাইল ব্যাখ্যা

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নামের আগে ‘মাননীয়’ বা ‘শ্রী’ শব্দ ব্যবহার না করে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে কড়া জবাব তলব করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে এই বিষয়ে একটি হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি জে. জে. মুনির এবং বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কেন এফআইআর কপিতে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নামের ক্ষেত্রে যথাযথ সম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করা হয়নি, তা স্পষ্ট করতে হবে প্রশাসনকে।

মথুরায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর বাতিলের দাবিতে হর্ষিত শর্মা-সহ তিন ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে এই শুনানি চলছিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, পুলিশ যখন অভিযোগ নথিভুক্ত করছিল, তখন প্রোটোকল মেনে মন্ত্রীর নামের আগে সম্মানসূচক শব্দ যোগ করা তাদের কর্তব্য ছিল। অভিযোগকারীর বয়ানে ভুল থাকলেও পুলিশের উচিত ছিল সেই ত্রুটি সংশোধন করে সরকারি নথিতে সঠিক মর্যাদা বজায় রাখা। বিশেষত একটি জায়গায় মন্ত্রীর নামের আগে এমনকি ‘শ্রী’ শব্দটিও ব্যবহার করা হয়নি, যা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এফআইআর নথিভুক্ত করার সময় পুলিশকে অবশ্যই যথাযথ প্রোটোকল মেনে চলতে হয়। যদি অভিযোগকারী প্রাথমিক রিপোর্টে মন্ত্রীর উল্লেখ সঠিকভাবে নাও করেন, তবুও পুলিশের দায়িত্ব ছিল সেই নামের সঙ্গে বন্ধনীতে হলেও সম্মানসূচক উপাধি যোগ করা। আইন ও প্রশাসনের উচ্চপদে আসীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের অবহেলা বা প্রোটোকল উপেক্ষা করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মনে করছে উচ্চ আদালত।

ইতিমধ্যেই আদালতের এই নির্দেশের প্রতিলিপি অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এবং মথুরার এসএসপি-র কাছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রেজিস্ট্রার (কমপ্লায়েন্স)। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৬ এপ্রিল। সেই দিনের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সরকারকে জানাতে হবে যে কেন এই বিশেষ ক্ষেত্রে প্রোটোকলের এমন গুরুতর বিচ্যুতি ঘটল।

এই ঘটনাটি প্রশাসনিক স্তরে এফআইআর নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশের কার্যপদ্ধতি এবং সরকারি পদমর্যাদার প্রতি সম্মানের বিষয়টি এখন আইনি পর্যালোচনার অধীনে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে পুলিশকে স্পর্শকাতর নথিপত্র তৈরির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করবে। সাংবাদিকতা ও প্রশাসনিক মহলে এই মামলাটি বর্তমানে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *