যুদ্ধের আবহে মোদীর কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক, চালের বিনিময়ে আফ্রিকান সোনা ও হীরা আনবে ভারত

বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধের ডামাডোল এবং তেলের তীব্র সংকট চলছে, তখন সুদূরপ্রসারী কৌশলে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করছে ভারত। সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুর্কিনা ফাসোতে ১০ লক্ষ কিলোগ্রাম চাল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। মূলত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সহায়তা পাঠানো হলেও, এর বিনিময়ে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দেশটির সঙ্গে ভারতের এক অভাবনীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের পথ প্রশস্ত হয়েছে।
আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ বুর্কিনা ফাসো বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের এই সময়োচিত সহায়তার প্রতিদান হিসেবে দেশটি ভারতকে ন্যায্য মূল্যে বিপুল পরিমাণ সোনা সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একইভাবে সিয়েরা লিওনেও সমপরিমাণ চাল পাঠিয়েছে ভারত। হীরা রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত সিয়েরা লিওনের হীরা ভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সুরাট ভিত্তিক হীরা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি-২০ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল, এখন তারই সুফল মিলছে। যখন মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়, তখন অ্যাঙ্গোলা ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় আফ্রিকাকে অধিক মর্যাদা দেওয়ার এই নীতি ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও খনিজ সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে, যা বিশ্বজুড়ে পরাশক্তিগুলোকে রীতিমতো অবাক করে দিয়েছে।