তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে বংশীবদন বর্মন, উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটে কি এবার বড়সড় বদল

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন উত্তরবঙ্গের দাপুটে রাজবংশী নেতা বংশীবদন বর্মন। দীর্ঘদিনের মিত্রতা ছিন্ন করে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপির হাত ধরলেন তিনি। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কে তাঁর গভীর প্রভাব থাকায়, এই দলবদল ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িসহ উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৫-৩০টি আসনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বংশীবদনের এই সিদ্ধান্ত।
তৃণমূল ত্যাগের নেপথ্যে মূলত রাজবংশী সমাজের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দাবিগুলোকেই দায়ী করেছেন বংশীবদন। তাঁর অভিযোগ, রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতি কিংবা কোচবিহারের পৃথক অস্তিত্বের মতো বিষয়গুলো নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদিচ্ছা দেখাননি। রাজ্য সরকার এই দাবিগুলোকে কেন্দ্রের এক্তিয়ারভুক্ত বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করায় মোহভঙ্গ হয়েছে এই নেতার। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি না হওয়ায় তিনি দিল্লির শাসকের ওপরই আস্থা রাখতে চাইছেন।
বিজেপির সঙ্গে আপাতত মাত্র দুটি আসনে রফা হলেও, বড় প্রাপ্তির আশায় বুক বাঁধছেন বংশীবদন। বিশেষ করে ১৯৪৯ সালের ভারতভুক্তি চুক্তির রূপায়ন এবং রাজবংশী সংস্কৃতির সুরক্ষায় বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে আশ্বস্ত করেছে বলে সূত্রের খবর। তবে ‘বাংলা ভাগ’ ইস্যুতে বিজেপি নেতৃত্ব এখনই স্পষ্ট কোনো অবস্থান না নিলেও, ভোট পরবর্তী আলোচনায় সদর্থক ফলের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
বংশীবদনের এই প্রস্থান তৃণমূলের জন্য সাংগঠনিকভাবে বিশাল বড় ক্ষতি। ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রাজবংশী ও মতুয়া ভোট সংহতিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। রাজবংশী ব্যাটালিয়ন কিংবা পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পদক্ষেপের সুবিধা নিলেও, মূল নেতার দলবদলে উত্তরবঙ্গের দুর্গ রক্ষা করা এখন শাসকদলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ৪ মে নির্বাচনী ফলাফলই বলে দেবে, বংশীবদনের এই দাবার চাল শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে মাইলেজ দেয়।