৯০ বছরেও মাতৃত্ব আর ১৫০ বছর আয়ু নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে এই রহস্যময় জনজাতি

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর সংলগ্ন হিমালয় ঘেরা হুঞ্জা উপত্যকার বাসিন্দারা বর্তমানে সারাবিশ্বের গবেষকদের কাছে এক বিস্ময়ের নাম। আধুনিক বিশ্বের দূষণ ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা যখন মানুষের গড় আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে, তখন এই উপত্যকার ‘বুরুশো’ বা হুঞ্জা সম্প্রদায়ের মানুষ অনায়াসেই ১২০ থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকছেন। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাসই তাদের এই দীর্ঘায়ুর নেপথ্য কারিগর বলে মনে করা হয়।
এই জনপদের নারীরা সৌন্দর্যের দিক থেকে বিশ্বসেরা হিসেবে বিবেচিত হন। এমনকি ৮০ বা ৯০ বছর বয়সেও তাদের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়ে না, বরং তাদের দেখে ২৫ থেকে ৩০ বছরের তরুণী বলে মনে হয়। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এখানকার নারীরা ৯০ বছর বয়সেও প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণ করতে সক্ষম। শারীরিকভাবে অত্যন্ত কর্মঠ এই মানুষগুলো সারাজীবনে খুব কমই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যান।
হুঞ্জা সম্প্রদায়ের এই অলৌকিক মনে হওয়া সুস্থতার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে তাদের কঠোর জীবনযাত্রায়। তারা প্রতিদিন ভোরে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে ওঠেন এবং যাতায়াতের জন্য যানবাহনের বদলে পায়ে হাঁটা বা সাইকেল চালানোকে প্রাধান্য দেন। তাদের প্রধান খাদ্যতালিকায় থাকে সম্পূর্ণ জৈব উপায়ে উৎপাদিত ফল, সবজি এবং হিমবাহ থেকে আসা বিশুদ্ধ খনিজ সমৃদ্ধ জল।
প্রায় ৮৫ হাজার মানুষের এই জনপদ পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষিত। তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি বেশ সমৃদ্ধ এবং বহির্বিশ্বের পর্যটকদের কাছে এই উপত্যকা এক স্বর্গীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ‘দ্য হেলদি হুঞ্জাজ’ বা ‘দ্য লস্ট কিংডম অফ দ্য হিমালয়াজ’-এর মতো একাধিক বইয়ে এই রহস্যময় ও দীর্ঘজীবী জাতির জীবনধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।