‘আমি ভবানীপুর না জিতলে হয়তো ও খুন হতো না’, সহযোদ্ধাকে হারিয়ে অনুতপ্ত শুভেন্দু

‘আমি ভবানীপুর না জিতলে হয়তো ও খুন হতো না’, সহযোদ্ধাকে হারিয়ে অনুতপ্ত শুভেন্দু

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের উৎসবের আবহে এখন শুধুই হাহাকার। নিজের ছায়াসঙ্গী তথা আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নির্মম মৃত্যুতে এবার ভেঙে পড়তে দেখা গেল বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথের নিথর দেহ যখন তাঁর গ্রামের বাড়ি চণ্ডীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছিল, তখন শুভেন্দুর কণ্ঠে ঝরে পড়ল গভীর আক্ষেপ আর অপরাধবোধ।

জয়ের ‘মাশুল’ দিতে হল চন্দ্রনাথকে?

বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথকে গুলিতে ঝাঁজরা করে দেওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন শুভেন্দু। এদিন তিনি বলেন, “আমি ভবানীপুর না জিতলে হয়তো ওকে খুন হতে হতো না। বিরোধী দলনেতা ছিলাম বলেই আমার পিএ হিসেবে ওকেও টার্গেট করা হয়েছিল।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের কেন্দ্রে পরাজিত করার চরম ‘মাশুল’ দিতে হল তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এই সহযোদ্ধাকে।

পরিবারকে আশ্বাস ও বিচারের অঙ্গীকার

মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু এদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি। তাঁর কথায়, “খুনের ঘটনার দ্রুত চার্জশিট পেশ হবে। যারা এই কাজ করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে উচিত শাস্তি পেতে হবে।” চন্দ্রনাথ কেবল একজন কর্মী ছিলেন না, শুভেন্দুর প্রতিটি রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি ছিলেন নেপথ্যের কারিগর। তাঁর এই আকস্মিক বিদায় শুভেন্দুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে জোড়া জয়ের পর যখন বিজেপি শিবিরে উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে ছিল, তখনই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থমথমে গোটা রাজ্য। চন্দ্রনাথের মা এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, পরাজয়ের আক্রোশ থেকেই তাঁর ছেলেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার শুভেন্দুর গলায় একই সুর শোনা যাওয়ায় বিষয়টি যে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিতে চলেছে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *