১০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও পেশাদার খুনি! চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে গঠিত হল সিআইডি-এসটিএফের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)

কলকাতা, ৭ মে ২০২৬: মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াতে তৎপর হল প্রশাসন। বুধবার রাতের এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে সিআইডি (CID) এবং এসটিএফ (STF)-এর পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা এই খুনের পিছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হামলার ধরন ও ‘১০ রাউন্ড’ গুলিবর্ষণ
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা অত্যন্ত পরিকল্পনামাফিক চন্দ্রনাথের গাড়ির গতিরোধ করেছিল। দোহারিয়া এলাকায় জনবহুল রাস্তার মাঝেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। প্রাক্তন বায়ুসেনা জওয়ান হওয়ার কারণে চন্দ্রনাথের শারীরিক গঠন ও প্রতিরোধের ক্ষমতা সম্পর্কে ঘাতকরা সম্ভবত আগে থেকেই অবগত ছিল। তাই তাঁকে পালানোর কোনও সুযোগ না দিয়েই ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে চম্পট দেয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা।
আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র ও আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই খুনে যে ধরনের অস্ত্র (প্রাথমিক ভাবে গ্লক পিস্তল বলে সন্দেহ) ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনও সাধারণ স্থানীয় দুষ্কৃতীর পক্ষে জোগাড় করা কঠিন। এসআইটি-র গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই অপারেশনের জন্য ভিন রাজ্য থেকে ‘পেশাদার শার্পশুটার’ ভাড়া করে আনা হয়েছিল। খুনিরা ঝাড়খণ্ড বা বিহারের দিক থেকে এসে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাই আন্তঃরাজ্য সীমানাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তদন্তে সিআইডি ও এসটিএফ-এর সমন্বয়
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে রাজ্য পুলিশ এই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এসআইটি ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ব্যালিস্টিক নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং যশোর রোডের ধারের সিসিটিভি ফুটেজগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে। গোয়েন্দাদের নজর এখন তিনটি বিষয়ের ওপর:
১. হামলার ঠিক আগে চন্দ্রনাথের গাড়ির গতিবিধি কারা ট্র্যাক করছিল?
২. ঘাতকদের ব্যবহৃত মোটরবাইক ও রহস্যময় গাড়িটির আসল মালিক কে?
৩. এই খুনের মোটিভ কি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও ব্যক্তিগত বা পেশাদার কারণ রয়েছে?
উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে শপথের অপেক্ষা
আগামী শনিবার নতুন সরকারের শপথগ্রহণের ঠিক আগে এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে আগ্নেয়গিরির মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে বিজেপি যখন ‘টার্গেট কিলিং’-এর অভিযোগে সরব, অন্যদিকে প্রশাসন সিবিআই তদন্তের পাল্টা দাবির মুখে দাঁড়িয়ে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে মরিয়া। সিআইডি-এসটিএফ সমন্বিত এই এসআইটি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনও বড় সাফল্য পায় কি না, এখন সেটাই দেখার।
প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।