বিকেল থেকেই রেইকি ও পালানোর জন্য বাইক, চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই পরতে পরতে উঠে আসছে হাড়হিম করা সব তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা ও রেইকি করার পর অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই ‘টার্গেট কিলিং’ সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিকেল থেকেই ওত পেতে ছিল আততায়ীরা
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘাতকরা বুধবার বিকেল থেকেই চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, দোলতলার সাহারা ব্রিজের কাছে বিকেল ৩:৫৭ মিনিট নাগাদ একটি সন্দেহভাজন চারচাকা গাড়ি দেখা গিয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, ওই গাড়িতেই ঘাতকরা ছিল এবং তারা চন্দ্রনাথের সাদা স্করপিও গাড়িটিকে অনুসরণ করছিল।
হামলার ব্লু-প্রিন্ট: গাড়ি ও বাইকের দ্বৈত ব্যবহার
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, আততায়ীরা অত্যন্ত সুকৌশলে এই অপারেশন সাজিয়েছিল:
- আক্রমণ: পুলিশ মনে করছে, তিন থেকে চারজন আততায়ী এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত। ঘাতকরা প্রথমে একটি চারচাকা গাড়ি থেকে নেমে চন্দ্রনাথের গাড়িটি থামায় এবং খুব কাছ থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়।
- পলায়ন: গুলি চালানোর পর দ্রুত এলাকা ছাড়ার জন্য আগে থেকেই একটি বাইক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। জনবহুল এলাকায় চারচাকা গাড়িতে পালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে ভেবেই মোটরবাইকটিকে ‘এস্কেপ ভেহিকল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চন্দ্রনাথের গাড়ির ঠিক পাশেই এসে দাঁড়িয়েছিল ওই বাইকটি।
পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিবর্ষণ
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে চন্দ্রনাথের গাড়িটি থামলে সুযোগ নেয় আততায়ীরা। গাড়ির জানলার কাঁচ দিয়ে অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। চন্দ্রনাথের শরীরে তিনটি গুলি লাগে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। আহত গাড়ির চালক বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
পুলিশি তৎপরতা
ইতিমধ্যেই ঘাতকদের ব্যবহৃত সেই রহস্যময় গাড়িটি পুলিশ উদ্ধার করেছে, যেটিতে নকল নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। বিকেল থেকে এলাকা রেইকি করা এবং পালানোর জন্য ব্যাকআপ বাইক রাখা— এই সব তথ্যপ্রমাণ থেকে পুলিশ নিশ্চিত যে, পেশাদার কোনও গ্যাং বা শার্পশুটারকে দিয়েই এই কাজ করানো হয়েছে। এই খুনের নেপথ্যে থাকা ‘মাস্টারমাইন্ড’-কে খুঁজতে এখন সিসিটিভি ফুটেজ এবং টাওয়ার লোকেশনই পুলিশের প্রধান হাতিয়ার।
প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।