ফোনের ওপারে তখন আততায়ীরা! শুভেন্দুর ‘ছায়াসঙ্গী’র শেষ মুহূর্তের সাক্ষী শিলিগুড়ির বিধায়ক

ফোনের ওপারে তখন আততায়ীরা! শুভেন্দুর ‘ছায়াসঙ্গী’র শেষ মুহূর্তের সাক্ষী শিলিগুড়ির বিধায়ক

বুধবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের আকস্মিক মৃত্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রকাশ্যে আততায়ীদের হানা এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের মাঝে উঠে আসছে চন্দ্রনাথের জীবনের শেষ মুহূর্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তে ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। সেই কথোপকথনের মাঝেই চন্দ্রনাথের কণ্ঠস্বর অস্পষ্ট হয়ে আসে, যা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফোনের ওপারে যখন মৃত্যুর হাতছানি

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে মোদি-শাহের সফর এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ নিয়ে বুধবার রাত ১০টা নাগাদ চন্দ্রনাথকে ফোন করেছিলেন শংকর ঘোষ। বিধায়কের বর্ণনা অনুযায়ী, কথা বলতে বলতেই আচমকা চন্দ্রনাথের গলা জড়িয়ে যেতে শুরু করে। শারীরিক অসুস্থতা ভেবে শংকরবাবু বারবার জিজ্ঞাসা করলেও ওপার থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। পরিবর্তে ফোনের ওপাশে বেশ কিছু অপরিচিত কণ্ঠস্বর শুনতে পান তিনি। সন্দেহ হওয়ায় ফোন কেটে পুনরায় যোগাযোগ করলে অন্য একজন ফোন ধরে জানান যে, চন্দ্রনাথ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

তদন্ত ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক হওয়ায় চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন দলের নেতা-কর্মীদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় আততায়ীদের উৎস এবং হামলার ধরন নিয়ে ইতিমধ্যেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। শংকর ঘোষের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার সময় কোলাঘাটে থাকলেও খবর পাওয়ামাত্রই মধ্যমগ্রামে পৌঁছান।

এই ঘটনার প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ভিভিআইপি-র নিরাপত্তার বলয়ে থাকা একজন ব্যক্তির ওপর কীভাবে এমন অতর্কিত হামলা হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার আকস্মিকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর অভাব আপাতত রহস্যকে আরও ঘনীভূত করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *