টলিউডের অন্দরে নজিরবিহীন সংঘাত, অশান্তি রুখতে মোতায়েন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী!

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল টলিউডের অন্দরমহলে। সোমবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শীর্ষ প্রযোজক সংগঠন ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা ইম্পা (EIMPA)। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ ও সংগঠনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে ইম্পা চত্বরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।
বিজেপি সমর্থক প্রযোজকদের একাংশের অভিযোগ, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত নয় এবং তারা পেশ পেশিশক্তির জোরে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ইম্পা অফিসের সামনে প্রতীকী ‘শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচি পালন করা হয় এবং দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, সংগঠনের অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসনকে ১৪৪ ধারা জারির মতো কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিতে হয়। বর্তমানে আদালতের কড়া নজরদারিতে ইম্পা অফিস ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল
এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে টলিউডের দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইম্পা-কে অবিলম্বে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে এবং নতুন করে স্বচ্ছ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবেশক শতদীপ সাহার নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী তাঁদের দাবি আদায়ে অনড়। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, আদালতের নজরদারিতেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়ম মেনেই সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। এই টানাপড়েনের মাঝেই স্টুডিও পাড়ায় শুটিং চলাকালীন টেকনিশিয়ানদের একাংশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সামগ্রিক বিনোদন জগতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ইম্পার এই অচলাবস্থার কারণে টলিউডের চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও বণ্টন ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও প্রযোজক বিভাগের চেয়ারম্যান ঋতব্রত ভট্টাচার্য বাজেট সংক্রান্ত পুরনো নিয়ম শিথিল করে স্বাধীনভাবে ছবি তৈরির সুযোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটছে না। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে থাকলেও সমাধান মেলেনি। আগামী শুক্রবার দু’পক্ষের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে টলিউডের এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের ভবিষ্যৎ এবং কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক হবে কি না।