২০২৬ বিধানসভা ভোট শুরু আসামে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে বিজেপি, কেরলে বামেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই
২০২৬ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেল বুধবার সকালে। আসাম, কেরল এবং পন্ডিচেরিতে একযোগে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই দফায় আসামে টানা তৃতীয়বার জয়ের লক্ষে মাঠে নেমেছে বিজেপি। অন্যদিকে, কেরলে নিজেদের দুর্গ রক্ষা করে পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া বামফ্রন্ট। পন্ডিচেরিতেও এন রাঙ্গাস্বামীর নেতৃত্বাধীন এআইএনআরসি চতুর্থবার জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে লড়াই চালাচ্ছে।
এই দফার নির্বাচনে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আসাম। ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর এটিই রাজ্যের প্রথম নির্বাচন। নতুন এই ব্যবস্থায় মুসলিম প্রভাবিত আসন সংখ্যা ৩২ থেকে কমে ২২-এ দাঁড়িয়েছে, যা ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রচারপর্বে বিজেপির ‘জাতি-মাটি-ভেটি’ রক্ষার ডাক এবং অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে ‘মিয়া’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। বিপরীতে, কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পরিবারের সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দুর্নীতির পাল্টা অভিযোগ তুলে সুর চড়িয়েছে।
আসামের ভোটচিত্রের অন্যতম আবেগপ্রবণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় তাঁর মৃত্যুকে স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনা বললেও আসাম পুলিশ একে ‘খুন’ বলে দাবি করেছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ক্ষমতায় এলে তারা ১০০ দিনের মধ্যে এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটও এবারের নির্বাচনে ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সম্ভাব্য গ্যাস সঙ্কটের আশঙ্কায় এলপিজি সিলিন্ডার সংক্রান্ত বড় ঘোষণা করেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুর মিশেলে ২০২৬-এর ভোটপর্বে আসাম এখন দেশের রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। এখন দেখার, ডিলিমিটেশনের নতুন সমীকরণ আর আবেগের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।