এক গ্রামেই উধাও ৪০০০ ভোটার, মালদায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব আতঙ্কে মহিষবাথানি

এক গ্রামেই উধাও ৪০০০ ভোটার, মালদায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব আতঙ্কে মহিষবাথানি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা বা এসআইআর (SIR) সংশোধন ঘিরে নজিরবিহীন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদা জেলায়। জেলার পুরাতন মালদা ব্লকের মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩,৭০০ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। একটি মাত্র গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক নাম মুছে যাওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যেমন শোরগোল পড়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক।

থমকে গেছে নির্বাচনী প্রচার জনশূন্য পার্টি অফিস

সাধারণত নির্বাচনের আগে মালদার গ্রামগুলোতে দেওয়াল লিখন এবং প্রচারের যে রমরমা থাকে, মহিষবাথানিতে তার লেশমাত্র নেই। কদমতলি, রাহুতগ্রাম, বালুয়াটোলা ও শুখাবাথানের মতো গ্রামগুলোতে এখন অদ্ভুত নীরবতা। স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পার্টি অফিসগুলো কার্যত বন্ধ। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ধাক্কায় রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারের বদলে এখন আইনি লড়াই এবং হিসেব মেলাতেই বেশি ব্যস্ত।

ঘরে ঘরে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়

মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার। এর মধ্যে কদমতলি গ্রামের ২৩ নম্বর বুথ থেকেই ৪২৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁদের বড় অংশই একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় গ্রামবাসীদের মনে এখন বড় প্রশ্ন— ভোট দিতে না পারলে তাঁদের নাগরিকত্ব কি বজায় থাকবে? এই আশঙ্কায় মহিষবাথানির ঘরে ঘরে এখন উৎসবের বদলে বিষাদের সুর।

ওলটপালট রাজনৈতিক সমীকরণ

এত বিশাল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে চলেছে মালদার নির্বাচনী ফলে। এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি:

  • তৃণমূল ও কংগ্রেস: উভয় দলই এই ঘটনাকে একটি গভীর ‘চক্রান্ত’ হিসেবে দেখছে। কংগ্রেস প্রার্থী ভূপেন্দ্রনাথ হালদারের মতে, এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনি সংকেত। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।
  • বিজেপি: গেরুয়া শিবির অবশ্য কমিশনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে। তাদের দাবি, কমিশন কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেয়নি। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে আইন অনুযায়ী আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, নাম বাদ পড়া ব্যক্তিরা অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সুযোগ পেলেও আসন্ন নির্বাচনের প্রথম দফায় তাঁদের ভোট দেওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে মহিষবাথানির এই কয়েক হাজার মানুষ আদৌ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল।

এক ঝলকে

  • স্থান: পুরাতন মালদা ব্লকের মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েত।
  • ঘটনা: প্রায় ৩,৭০০ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
  • প্রভাব: কদমতলি গ্রামের একটি বুথ থেকেই ৪২৮ জন ভোটার বাদ।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: নির্বাচনী প্রচার বন্ধ, এলাকায় ব্যাপক নাগরিকত্ব আতঙ্ক।
  • আইনি অবস্থান: ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সুযোগ থাকলেও প্রথম দফায় ভোট দেওয়া আসাম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *