তৃণমূলে যাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল! ক্ষমা চাইলেন বিদায়ী বিধায়ক

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আবহে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় রাজনৈতিক শোরগোল ফেলে দিলেন বিদায়ী বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম। খাতায়-কলমে শাসক দলের বিধায়ক হয়েও টিকিট না পেয়ে সম্প্রতি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তিনি। এবার নির্বাচনী প্রচারের ময়দান থেকে হাতজোড় করে মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া ছিল তাঁর জীবনের চরম ভুল সিদ্ধান্ত এবং দল তাঁকে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
উন্নয়নে ব্যর্থতা ও দলীয় ক্ষোভ
জনসভায় দাঁড়িয়ে আব্দুর রহিম স্বীকার করেন যে, গত পাঁচ বছরে রেকর্ড ভোটে জিতেও তিনি বাদুড়িয়ার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। এর জন্য তিনি সরাসরি শাসক দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও কাজের স্বাধীনতার অভাবকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দলে থেকেও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাননি বলেই আজ তিনি অনুতপ্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগী এই নেতার এমন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি নির্বাচনের মুখে কংগ্রেসের পালে হাওয়া কাড়তে পারে।
ভোটের ময়দানে প্রভাব ও পাল্টাপাল্টি তোপ
এবার বাদুড়িয়া আসনে বিদায়ী বিধায়ককে সরিয়ে বুরহানউল মুকাদ্দিনকে প্রার্থী করেছে ঘাসফুল শিবির। টিকিট না পেয়েই দিল্লিতে গিয়ে পুরোনো দলে ফেরেন রহিম। তবে তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনাকে ‘নির্বাচনী স্টান্ট’ বলে কটাক্ষ করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, জনসভায় ভিড় না হওয়ায় এবং নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই তিনি এখন সহানুভূতির পথ খুঁজছেন। এই টানাপোড়েনের প্রভাব ইভিএমে কতটা পড়বে, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- তৃণমূলকে ‘ব্যবহারকারী’ দল হিসেবে চিহ্নিত করে কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক।
- ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেওয়াকে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে বর্ণনা করে জনসভায় ক্ষমা চাইলেন তিনি।
- শাসক দলে থাকাকালীন কাজের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের সুযোগ না পাওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কাজী আব্দুর রহিম।
- বিষয়টিকে নির্বাচনী হতাশা ও জনভিত্তি হারানোর ফল হিসেবে দাবি করছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।