প্রথম দফায় কি লক্ষ্যপূরণ হবে পদ্মশিবিরের? ধন্দে গেরুয়া নেতৃত্ব

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মতো বিজেপির শক্ত ঘাঁটিগুলোতে এই দফায় ভোট হওয়ায় গেরুয়া শিবিরের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ১১০ থেকে ১২৫টি আসনে জয়ের দাবি করলেও, ভোটের পর নিচুতলার সাংগঠনিক রিপোর্ট ও বুথস্তরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে খোদ দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে ধন্দ। বিশেষ করে গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় রাজবংশী ও আদিবাসী ভোটব্যাংক কতটা অটুট থাকল, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে।
ভোটের সমীকরণ ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ
বিগত নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে ছিল ৫৯টি আসন, যেখানে তৃণমূল জিতেছিল ৯২টিতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দফাই ছিল বিজেপির জন্য ‘পাওয়ার প্লে’, কারণ বাকি আসনগুলোতে তাদের সাংগঠনিক শক্তি তুলনামূলক কম। তবে ভোটের দিন অনেক বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্ট না থাকা এবং কর্মীদের নিস্পৃহতা দলের রাজ্য দপ্তরে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ভোটারদের বুথমুখী করার ক্ষেত্রেও নিচুতলার কর্মীদের খামতি ছিল বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা।
ভোটব্যাংক ও মেরুকরণের প্রভাব
মালদহ ও মুর্শিদাবাদে মেরুকরণের আবহ তীব্র হলেও তার সুফল শেষ পর্যন্ত কার ঘরে যাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পাশাপাশি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে রাজবংশী ভোট ধরে রাখা এবং ঝাড়গ্রাম-পুরুলিয়ার আদিবাসী প্রধান এলাকায় অর্জুন মুন্ডা বা বাবুলাল মারান্ডিদের প্রচার কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইভিএম সংক্রান্ত অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাওয়াকে মূল হাতিয়ার করে অমিত শাহরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও, অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে আসন সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
এক ঝলকে
- ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোট শেষ হলেও বিজেপির অন্দরে আসন সংখ্যা নিয়ে সংশয়।
- কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১১০টির বেশি আসনে জয়ের দাবি করলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে চিন্তিত নেতৃত্ব।
- রাজবংশী ও আদিবাসী ভোটব্যাংক ধরে রাখা এবং বুথস্তরে এজেন্টের অনুপস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- ২০২১ সালের তুলনায় পাওয়ার প্লে-তে বিজেপি কতটা এগোতে পারল, তা নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া।