বিজেপির মহিলা সদস্যকে মারধর ও বেঁধে রাখার অভিযোগে রণক্ষেত্র গোঘাট

ভোটের উত্তাপে উত্তাল হুগলির গোঘাট। কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক বিজেপি মহিলা সদস্যকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং বেঁধে রাখার অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান রাজদীপ দে ও তাঁর অনুগামীদের দিকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত থাকে গোঘাট থানা চত্বর, যেখানে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকরা দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগের প্রকৃতি
স্থানীয় সূত্রের খবর, কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই সদস্য বৃহস্পতিবার দলীয় প্রচার ও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ফর্ম পূরণের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় পঞ্চায়েত প্রধান রাজদীপ দে দলবল নিয়ে সেখানে চড়াও হন। বিজেপি সদস্যকে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয় এবং চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে বেঁধে রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছান গোঘাট থানার আইসি, যাঁকেও বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি ও রাজনৈতিক প্রভাব
আক্রান্ত নেত্রীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তৃণমূল প্রার্থী নির্মল কুমার মাঝি পালটা অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে বিজেপি ফর্ম পূরণ করছিল এবং এটি মূলত একটি সাজানো ঘটনা। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক মেরুকরণ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা আগামী ভোটগ্রহণের দিনগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি মহিলা সদস্যকে নিগ্রহ ও বেঁধে রাখার অভিযোগ।
- অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান রাজদীপ দে ও তাঁর অনুগামীরা।
- দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে গোঘাট থানায় বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ।
- নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের পালটা অভিযোগ তুলে কমিশনকে জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।