এ কী কাণ্ড! স্ত্রীকে হত্যার পর পুলিশের কাছে ফোন, দেহ নিয়ে যাওয়ার আর্জি জানালেন স্বামী

শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানার শিবমন্দির সংলগ্ন হালের মাথায় এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর ঘাতক স্বামী নিজেই পুলিশকে ফোন করে লাশের হদিস দেন। এই ঘটনাটি উত্তরবঙ্গের এই জনবহুল এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের পদক্ষেপ
গত বুধবার সকালে মাটিগাড়া থানায় একটি অপ্রত্যাশিত ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি জানান যে, তাঁর ঘরে স্ত্রীর মৃতদেহ পড়ে আছে এবং পুলিশ যেন তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দম্পতি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টের চারতলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। পুলিশ যখন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে, তখন ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ আসছিল। বিছানার ওপর থেকে দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায় (বয়স আনুমানিক ৪২-৪৪) নামে ওই মহিলার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্তের পলায়ন ও গ্রেপ্তার
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ১১ বছরের ছেলেকে নিয়ে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি পেশায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রীকে খুন করার পর তিনি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সক্রিয় হয়। শেষ পর্যন্ত মালদা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ বাহিনী। তাকে বর্তমানে শিলিগুড়িতে নিয়ে আসা হচ্ছে।
সম্ভাব্য কারণ ও প্রাথমিক তদন্ত
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি কাজি শামসুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত এবং লাশের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে যে, অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে ওই মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে এই নৃসংশ হত্যাকাণ্ড, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পারিবারিক বিবাদ নাকি অন্য কোনো গভীর সংকট এর নেপথ্যে রয়েছে, তা ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার সামাজিক প্রভাব
দিনদুপুরে জনবহুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটের ভেতর এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রতিবেশীদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। বিশেষ করে খুনের পর অভিযুক্তের শান্তভাবে পুলিশকে ফোন করা এবং নাবালক সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অপরাধীর মানসিক কাঠিন্যকে প্রতিফলিত করে। এই ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতা এবং নাগরিক নিরাপত্তাকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
একঝলকে
- মৃতের নাম: দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায় (৪২-৪৪ বছর)।
- অভিযুক্তের নাম: অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (পেশায় ব্যাংক কর্মী)।
- ঘটনাস্থল: শিবমন্দির, হালের মাথায় এলাকা, মাটিগাড়া।
- বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্তকে মালদা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- তদন্তের তথ্য: দুই-তিন দিন আগে শ্বাসরোধ করে খুনের প্রাথমিক অনুমান।