অমরাবতীর বিভীষিকা: ১৮০ জন নাবালিকাকে ‘লাভ ট্র্যাপে’ ফেলে যৌন শোষণ, ধৃত ‘প্লে-বয়’ আয়াজ!

অমরাবতীর বিভীষিকা: ১৮০ জন নাবালিকাকে ‘লাভ ট্র্যাপে’ ফেলে যৌন শোষণ, ধৃত ‘প্লে-বয়’ আয়াজ!

মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে এক নৃশংস যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ব্রেকআপের পর নিজের পুরুষত্ব ও দাপট জাহির করতে ‘প্লে-বয়’ ইমেজ তৈরির নেশায় মেতে উঠেছিল মহম্মদ আয়াজ নামের এক যুবক। এই উন্মাদনার বলি হয়েছে অন্তত ১৮০ জন নাবালিকা। অভিযুক্ত যুবক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ পেতে নাবালিকাদের মুম্বই ও পুণেতে নিয়ে যেত এবং সেখানে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করত বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্ল্যাকমেল ও অপরাধের নীল নকশা

তদন্তে জানা গেছে, ধৃত আয়াজ প্রায় ৩৫০-র বেশি অশ্লীল ভিডিও রেকর্ড করে সেগুলো দিয়ে মেয়েদের ব্ল্যাকমেল করত। এই ভিডিওগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সে নাবালিকাদের দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করত এবং কিছু ভিডিও ইন্টারনেটেও ছড়িয়ে দিত। অভিযুক্ত তার দাপট বজায় রাখতে এবং ইনস্টাগ্রামে অনুগামীদের নজর কাড়তে নিয়মিত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পোস্ট করত। এই কাজে সে তার বন্ধু উজর খানের সাহায্য নিত এবং একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট ও ক্যাফেতে মেয়েদের নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালাত।

পুলিশি যোগসাজশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

ঘটনাটি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ভাইরাল ভিডিওতে অভিযুক্তের জন্মদিনের পার্টিতে কয়েকজন পুলিশ কর্মীকে দেখা যাওয়ায় একজন অফিসারসহ তিনজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়াজের বাড়ির অবৈধ অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় আয়াজ ও তার সহযোগী উজরের মধ্যকার বিবাদ থেকে, যার ফলে মোবাইলে থাকা ভিডিওগুলো ফাঁস হয়ে যায় এবং পুলিশ পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

এক ঝলকে

  • মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে ১৮০ জন নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মহম্মদ আয়াজ ও তার সহযোগী গ্রেফতার।
  • অভিযুক্তের মোবাইল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৫০-র বেশি আপত্তিকর ভিডিও ও ব্ল্যাকমেল করার তথ্য।
  • ব্রেকআপের পর ‘প্লে-বয়’ ইমেজ ও প্রভাব বিস্তারের বিকৃত মানসিকতা থেকেই এই ধারাবাহিক অপরাধ।
  • প্রশাসনিক পদক্ষেপে অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙা হয়েছে এবং গাফিলতির দায়ে ৩ পুলিশ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *