ধর্মীয় প্রতীকে আর মানা নেই! বিতর্কের মুখে পিছু হটে কর্মীদের জন্য নতুন ‘স্টাইল গাইড’ আনল লেন্সকার্ট

কর্মীদের ব্যক্তিগত সাজসজ্জা নিয়ে পুরনো একটি বিতর্কিত নির্দেশিকা ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল জনপ্রিয় আইওয়্যার ব্র্যান্ড লেন্সকার্ট। যদিও সংস্থার সিইও পিয়ূষ বনসল এই ঘটনায় আগেই ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতে জনরোষ প্রশমিত হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে অবশেষে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘ইন-স্টোর স্টাইল গাইড’ প্রকাশ করল সংস্থাটি। নতুন এই নীতিমালায় কর্মীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশের অধিকারকে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বৈচিত্র্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় গুরুত্ব
লেন্সকার্টের নতুন গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, স্টোরে কর্মরত কর্মীরা বিন্দি, তিলক, সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র কিংবা কড়ার মতো ধর্মীয় প্রতীক অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি হিজাব ও পাগড়ি পরার ক্ষেত্রেও আর কোনো বাধা থাকছে না। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে তাদের ২ হাজার ৪০০-র বেশি স্টোরে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ কাজ করেন। তাই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি কর্মীদের নিজস্ব পরিচয়কে সম্মান জানানোই এখন লেন্সকার্টের মূল লক্ষ্য।
পেশাদারিত্ব ও অভিযোগ প্রতিকার
পোশাকের স্বাধীনতার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি লুক নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি। চুল ও গোঁফ-দাড়ির বিন্যাস যেন মার্জিত থাকে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কর্মীর যদি বিশেষ কোনো কারণে গাইডলাইন মানতে সমস্যা হয় বা বৈষম্যের শিকার হন, তবে সরাসরি মানবসম্পদ বিভাগে (HR) অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। লেন্সকার্টের দাবি, তারা একটি ভারতীয় সংস্থা হিসেবে বহুত্ববাদ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
এক ঝলকে
- বিতর্কিত পুরনো নিয়ম বাতিল করে নতুন ‘ইন-স্টোর স্টাইল গাইড’ চালু করল লেন্সকার্ট।
- নতুন নীতি অনুযায়ী বিন্দি, তিলক, হিজাব ও পাগড়ির মতো ধর্মীয় অনুষঙ্গ পরে কাজ করা যাবে।
- কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- বৈষম্য রুখতে এবং সমস্যা সমাধানে কর্মীদের জন্য এইচআর বিভাগে অভিযোগ জানানোর বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে।