ট্রাম্পের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! পাকিস্তানকে দাবার ঘুঁটি বানিয়ে ইরানকে কাবু করল আমেরিকা?

দীর্ঘ ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে। বুধবার এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তান। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে পাকিস্তান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বড় সাফল্য পেয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন রিপোর্ট বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসছে এক ভিন্ন সমীকরণ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুকৌশলী কূটনৈতিক চালে পাকিস্তান আসলে কেবল একটি ‘বার্তাবাহক’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
লন্ডনভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে পর্দার আড়ালে এক গভীর রাজনৈতিক খেলা চলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনায় না গিয়ে পাকিস্তানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মূলত পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের শর্ত ও প্রস্তাবগুলো ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে আমেরিকা।
ট্রাম্পের এই কৌশলের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করেছে:
- ভৌগোলিক ও ধর্মীয় প্রভাব: ইরান পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশ এবং উভয়ই মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র। ট্রাম্পের ধারণা ছিল, আমেরিকার প্রস্তাব যদি পাকিস্তানের মাধ্যমে যায়, তবে ইরানের পক্ষে তা গ্রহণ করা সহজ হবে।
- কূটনৈতিক লক্ষ্য অর্জন: স্ট্রেট অফ হরমুজ পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহ ছিল। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি পাকিস্তানের কাঁধে বন্দুক রেখে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করেছেন।
- গোপন যোগাযোগ: গত কয়েক দিন ধরে পাকিস্তান সরকারের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের অত্যন্ত গোপনীয় বৈঠক চলেছে। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং আমেরিকা ও ইরানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা পালনের দাবি করলেও কার্যত তারা আমেরিকার নির্দেশ পালনকারী হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত চতুরতার সাথে পাকিস্তানকে কেবল একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে নিয়েছে, যাকে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের জন্য এক প্রকার ‘কূটনৈতিক পরাজয়’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
একঝলকে
- ৪০ দিন পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইরানের সাথে কথা না বলে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করেন।
- ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান কেবল একটি বার্তাবাহক (Messenger) হিসেবে কাজ করেছে।
- স্ট্রেট অফ হরমুজ চালুর শর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে এই কাজে নিযুক্ত করেন।
- পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।
- এই ঘটনার ফলে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।