“ভোট মিটলেই ফিরতে হবে BJP রাজ্যে, মেপে চলুন!”—নন্দীগ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকদের সরাসরি হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের আবহে এবার নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে তাঁর দেওয়া এই বার্তাকে সরাসরি ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি সুভেন্দুর বার্তা ও হুঁশিয়ারি
রবিবার নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া ও গোকুলনগরে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় সুভেন্দু অধিকারী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের বিশেষ সতর্কতা প্রদান করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নন্দীগ্রামের একটি বিশাল সংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে যান। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
- নন্দীগ্রামের প্রায় ৩০,০০০ মানুষ গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং ওড়িশায় কর্মরত।
- এর মধ্যে গুজরাটে ১,১০০, ওড়িশায় ৮০০ এবং মহারাষ্ট্রে ৩,৩০০ মুসলিম যুবক রয়েছেন।
- বিরোধী দলনেতার সাফ বক্তব্য, এই রাজ্যগুলোতে বিজেপি সরকার রয়েছে। তাই নির্বাচনের পর কাজে ফেরার কথা মাথায় রেখে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজেদের ‘আচরণ’ সংশোধন করা উচিত।
৪ মে-র পর পরিণতির ইঙ্গিত
সুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ভোটের পর এই শ্রমিকদের পুনরায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেই ফিরতে হবে। তিনি বলেন, “ভুল করবেন না, নিজেদের অভ্যাস বদলে ফেলুন যাতে ৪ মে-র পর কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।” এমনকি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বা বিরোধী মনোভাবের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান যে, তিনি সমস্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং সবকিছু নথিবদ্ধ করছেন।
টিএমসি-র তীব্র প্রতিবাদ ও নির্বাচন কমিশনে নালিশ
সুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর সোমবার পালটা প্রচার চালিয়ে বলেন যে, বিরোধী দলনেতার রাজনীতি শুধুমাত্র ভয় দেখানো এবং হুমকির ওপর ভিত্তি করে চলছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার পরিবর্তে তিনি উস্কানিমূলক কথা বলছেন বলে অভিযোগ করেন কর। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বক্তব্যের বিষয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাবে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
এদিকে, কলকাতা ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সবর ইনস্টিটিউট’-এর একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকা থেকে যে নামগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৯৫.৫ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। অথচ ওই এলাকায় এই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ। সংস্থার পরিচালক সাবির আহমেদ জানান যে, প্রাথমিক জনগণনার সময় এই ব্যবধান না থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় এই ব্যাপক বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে।
একঝলকে
পরবর্তী পদক্ষেপ: বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।
বিতর্কের কেন্দ্র: নন্দীগ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি সুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি।
মূল বক্তব্য: বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাজ করতে হলে আচরণ ঠিক করতে হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব: তৃণমূল একে সরাসরি হুমকি হিসেবে গণ্য করছে।
পরিসংখ্যান: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াদের ৯৫.৫% সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।