আকাশছোঁয়া প্লাস্টিকের দাম! যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দামি হচ্ছে খেলনা, কত বাড়বে খরচ?

বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা এবং ইরান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব এবার আছড়ে পড়ল শিশুদের খেলার ঘরে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্লাস্টিকের কাঁচামালের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের খেলনা শিল্পে। শিল্প মহলের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচ লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় আগামী দিনে অভিভাবকদের খেলনা কিনতে গিয়ে বড় অঙ্কের বাড়তি টাকা খরচ করতে হবে।
প্লাস্টিকের বাজারে অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির কারণ
খেলনা তৈরির প্রধান উপাদান হলো প্লাস্টিক রেজিন, যা মূলত খনিজ তেলের উপজাত পণ্য। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্লাস্টিকের কাঁচামালের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ভারতের বাজারে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি প্লাস্টিকের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০ টাকায় পৌঁছেছিল। যদিও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর দাম সামান্য কমে বর্তমানে ১৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, তবুও তা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।
কাঁচামালের দামের এই উর্ধ্বগতি সম্পর্কে অল ইন্ডিয়া টয় ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাব্বির গাবাজিওয়ালা জানিয়েছেন যে, প্লাস্টিকের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে খেলনার দাম ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিল্ডিং ব্লক, শিশুদের রাইড-অন খেলনা, টয় গান এবং খেলনা গাড়ির মতো পণ্যগুলোতে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এগুলোর দাম বাড়বে সবথেকে বেশি।
উৎপাদন খরচ ও শিল্পের সংকট
খেলনা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর মতে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেবল প্লাস্টিক নয়, খেলনা তৈরির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন—এবিএস, পলিপ্রোপাইলিন, পিভিসি এবং পলিথিনের দাম ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর পাশাপাশি প্যাকেজিং সামগ্রী, আঠা এবং পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাগুলোর মুনাফায় টান পড়ছে।
প্লাস্টিক ছাড়াও ইলেকট্রনিক খেলনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দামও ৫ থেকে ৭ শতাংশ বেড়েছে। অনেক সংস্থা বর্তমানে নিজেদের লভ্যাংশ কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও, কাঁচামালের দাম না কমলে শীঘ্রই তারা পণ্যের খুচরো দাম বাড়াতে বাধ্য হবে। সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্রেতাদের অবস্থান
পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মেঘ ঘনালেও বাজারে খেলনার চাহিদাতে এখনও বড় ধরনের ধস নামেনি। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছুটা মন্দার সংকেত থাকলেও সচেতন ক্রেতারা এখনও উন্নত গুণমানের ও ব্র্যান্ডেড খেলনার ওপরেই আস্থা রাখছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে কাঁচামালের দাম চড়া থাকলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে এই শখের পণ্যটি।
একঝলকে
- ইরান যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্লাস্টিকের কাঁচামালের দাম চড়া।
- প্লাস্টিকের দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, বর্তমানে তা ১৫০ টাকা।
- খেলনার দাম ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- বিল্ডিং ব্লক, রাইড-অন টয় এবং ইলেকট্রনিক খেলনার দাম বাড়বে সবথেকে বেশি।
- প্লাস্টিক রেজিন ছাড়াও প্যাকেজিং, আঠা এবং পরিবহণ খরচ বৃদ্ধিতে চাপে উৎপাদকেরা।