নয়ডায় রণক্ষেত্র: বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে ভয়াবহ হিংসা, ৩০০ গ্রেফতার— নেপথ্যে কি পাক যোগ?

নয়ডায় রণক্ষেত্র: বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে ভয়াবহ হিংসা, ৩০০ গ্রেফতার— নেপথ্যে কি পাক যোগ?

উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় বেতন বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের আন্দোলন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সোমবার দিল্লির পার্শ্ববর্তী এই শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিলে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানচলাচল স্থবির হয়ে পড়ে এবং বেশ কিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সহিংসতার নেপথ্যে বেতন বৈষম্য ও অসন্তোষ

নয়ডার শ্রমিকদের এই ক্ষোভের প্রধান কারণ প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানার মজুরি কাঠামো। সম্প্রতি হরিয়ানা সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে নয়ডার শ্রমিকদের মধ্যেও একই দাবিতে আন্দোলন দানা বাঁধে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ:

  • কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি নয়ডার শিল্প মালিকরা কার্যকর করছেন না।
  • শ্রমিকদের দিনে ১২ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি করতে হয়, যার বিনিময়ে তারা মাসে মাত্র ১১,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন।
  • দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো আসাম্ভব হয়ে পড়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

নেপথ্যে কি কোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

নয়ডার এই বিশৃঙ্খলার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর দাবি করেছেন, এই আন্দোলনের আড়ালে দেশবিরোধী শক্তির হাত থাকতে পারে। তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুতর বিষয়:

  • পাকিস্তান যোগসাজশ: সম্প্রতি মিরাট ও নয়ডায় ধরা পড়া চার জঙ্গির সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, শ্রমিক আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী।
  • মুখ্যমন্ত্রীর সফর লক্ষ্য: মুজাফফরনগরে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সফর বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যেই এই সহিংসতাকে উসকে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।

পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং জানিয়েছেন, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে চলে যাওয়ার পর কিছু বহিরাগত লোক এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বর্তমানে নয়ডায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকার সর্বদা তাদের পাশে আছে। তবে যারা উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, বিজেপি সরকার কেবল শিল্পপতিদের স্বার্থ দেখছে এবং শ্রমিকদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

একঝলকে

  • নয়ডায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের ব্যাপক আন্দোলন ও সহিংসতা।
  • প্রতিবাদী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪০,০০০; রণক্ষেত্র শিল্পাঞ্চল।
  • ৩০০ জন গ্রেপ্তার এবং ১০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
  • সহিংসতার নেপথ্যে পাকিস্তান ও জঙ্গি কানেকশন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • হরিয়ানার মজুরি কাঠামোর সঙ্গে বৈষম্যই আন্দোলনের মূল কারণ।
  • শ্রমিকদের অভিযোগ, ১২ ঘণ্টা খাটুনির বিনিময়ে মজুরি মাত্র ১১-১৫ হাজার টাকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *