৪৯ লাখ টাকা জলে! এয়ারলাইন্সের দাদাগিরিতে পথে বসল পরিবার, বিপাকে সিইও!

৪৯ লাখ টাকা জলে! এয়ারলাইন্সের দাদাগিরিতে পথে বসল পরিবার, বিপাকে সিইও!

বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ করে বিজনেস ক্লাসের টিকিট কাটার পরেও শেষ মুহূর্তে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয় একটি পরিবারকে। এই ঘটনায় ‘কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্স’-এর (KLM Royal Dutch Airlines) সিইও এবং সিওও-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে কর্ণাটকের একটি আদালত।

বিলাসবহুল ভ্রমণের স্বপ্ন ও হয়রানির সূত্রপাত

তামিলনাড়ুর সেলামের একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জে. এস. সতীশ কুমার গত জুন মাসে তাঁর পরিবারের ৮ সদস্যকে নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। বিলাসবহুল ভ্রমণের জন্য তিনি প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ করে আটটি নন-রিফান্ডেবল বিজনেস ক্লাস টিকিট বুক করেন। কিন্তু যাত্রার দিন বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে সমস্ত নিয়ম মেনে পৌঁছানোর পরেও বিমান ছাড়ার ঠিক আগে বিমান সংস্থার কর্মীরা তাঁদের বিমানে উঠতে বাধা দেন।

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ

এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ওই যাত্রীদের কাছে পেরুর বৈধ ভিসা নেই। তবে সতীশ কুমারের অভিযোগ, বিমান সংস্থাটি আন্তর্জাতিক ভিসা নিয়মাবলী বুঝতে ভুল করেছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভারতীয় নাগরিকের যদি আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া বা শেঞ্জেন অঞ্চলের বৈধ ভিসা থাকে, তবে পেরু ভ্রমণের জন্য আলাদা করে ভিসার প্রয়োজন হয় না। সতীশ কুমারের পরিবারের কাছে এই ভিসাগুলো থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।

ব্ল্যাক লিস্ট বা রেড ফ্ল্যাগ করার গুরুতর অভিযোগ

হয়রানি কেবল বিমানবন্দরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সতীশ কুমার আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলে বিমান সংস্থাটি প্রতিহিংসামূলক আচরণ শুরু করে বলে অভিযোগ। তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম ‘রেড-ফ্ল্যাগ’ বা কালো তালিকাভুক্ত করে দেওয়া হয়। এর ফলে পরবর্তীকালে সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের সময় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়। এমনকি তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, কেন তাঁদের পেরু থেকে বিতাড়িত (Deportation) করা হয়েছে, অথচ বাস্তব তথ্য হলো তাঁরা পেরুতে পা-ই রাখতে পারেননি।

আদালতের কড়া অবস্থান ও আইনি পদক্ষেপ

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দেবনাহল্লির সিভিল জজ এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিমান সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই হস্তক্ষেপ গ্রাহক অধিকার রক্ষায় একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাটি বিমান সংস্থাগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতি সম্পর্কে কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

একঝলকে

  • ঘটনা: ৪৯ লক্ষ টাকার টিকিট থাকা সত্ত্বেও বিমানে উঠতে বাধা।
  • অভিযুক্ত: কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্সের সিইও এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
  • মূল কারণ: ভিসা নীতি নিয়ে বিমান সংস্থার ভুল ব্যাখ্যা।
  • অভিযোগ: হয়রানির পাশাপাশি যাত্রীদের আন্তর্জাতিকভাবে ‘রেড-ফ্ল্যাগ’ করার অভিযোগ।
  • বর্তমান অবস্থা: আদালতের নির্দেশে পুলিশি তদন্ত ও এফআইআর দায়ের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *