ইরানকে চারদিক থেকে ঘেরাও করছে আমেরিকা! সাগরে নামল শক্তিশালী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’, কাঁপছে তেহরান

ইরানকে চারদিক থেকে ঘেরাও করছে আমেরিকা! সাগরে নামল শক্তিশালী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’, কাঁপছে তেহরান

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনার পারদ হু হু করে বাড়ছে। ইরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে চাপে ফেলতে এক বিশাল রণকৌশল বাস্তবায়ন শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে এবার সরাসরি নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিমত্তা ও কৌশলগত অবস্থান

ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি প্রায় ১৫টিরও বেশি অত্যাধুনিক মার্কিন রণতরী অবস্থান নিয়েছে। এই বহরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো অত্যন্ত শক্তিশালী আক্রমণাত্মক জাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ (USS Tripoli)। এই জাহাজটির উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ইউএসএস ত্রিপোলির মূল সক্ষমতাগুলো হলো:

  • এফ-৩৫বি লাইটনিং ২: এই যুদ্ধবিমানগুলো রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম (স্টিলথ প্রযুক্তি), যা শত্রুপক্ষের অগোচরে হামলা চালাতে পারে।
  • এমভি-২২ অস্প্রে: এই বিশেষ যানটি উলম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, যা দ্রুত সেনা মোতায়েনে সহায়ক।
  • ভারী হেলিকপ্টার: আকাশপথ ও সমুদ্রপথে একযোগে আক্রমণ পরিচালনার জন্য এতে রয়েছে শক্তিশালী হেলিকপ্টার বহর।
  • সেনা মোতায়েন: কয়েক হাজার সৈন্যকে সরাসরি শত্রুর উপকূলে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে এই রণতরী।

অবরোধের মুখে ইরান ও বিশ্ব বাণিজ্যের প্রভাব

আমেরিকা স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো থেকে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে তা আটকে দেওয়া হবে। তবে বিশ্ব অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে এখনই বাধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় ভারতীয় জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান কিছুটা নমনীয় ও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

আলোচনার পথে সমাধানের চেষ্টা

মার্কিন সামরিক চাপের মুখে ইরান বর্তমানে সরাসরি সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খুঁজছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এর আগে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই উত্তেজনা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বিশেষ করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

একঝলকে

যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা।

ইরান উপকূলে আমেরিকার ১৫টির বেশি অত্যাধুনিক রণতরী মোতায়েন।

শক্তিশালী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ জাহাজের মাধ্যমে ইরানের ওপর নজরদারি।

হরমুজ প্রণালী আপাতত অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

শান্তি ফেরাতে দুই দেশের মধ্যে নেপথ্য আলোচনা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *