ডাক্তারি শুধু পেশা নয়, মানবসেবার ব্রত: রোগীদের স্বার্থই হোক শেষ কথা, বার্তা রাষ্ট্রপতির

মহারাষ্ট্রের নাগপুরে অখিল ভারতীয় আয়ুর্বেদ বিজ্ঞান সংস্থানের (এমস) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বুধবার যোগ দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌपदी মুর্মু। অনুষ্ঠানে নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়, এটি সংবেদনশীলতার সাথে মানবতার সেবা করার একটি অনন্য পথ। একজন চিকিৎসক কেবল রোগের চিকিৎসা করেন না, বরং অসুস্থ মানুষের মনে আশার আলো জাগিয়ে তোলেন।
চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্কের গুরুত্ব
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন:
- চিকিৎসকদের দেওয়া সহানুভূতিশীল পরামর্শ রোগী এবং তাঁদের পরিবারকে মানসিক শক্তি প্রদান করে।
- অনেক সময় চিকিৎসকদের অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়, তবুও রোগীদের প্রতি সংবেদনশীল থাকা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।
- একইভাবে, রোগীদের এবং তাঁদের পরিবারকেও চিকিৎসা পেশাজীবীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে যাতে আস্থার পরিবেশ বজায় থাকে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি
রাষ্ট্রপতি দেশের সামগ্রিক প্রগতিতে সুস্বাস্থ্যের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত এক দশকে কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশজুড়ে নতুন নতুন ‘এমস’ প্রতিষ্ঠার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি চিকিৎসা শিক্ষার পথও প্রশস্ত হয়েছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্বাস্থ্য পরিষেবার আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং উন্নত গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
- গ্রাম ও শহরের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।
নবীন চিকিৎসকদের প্রতি রাষ্ট্রপতির বার্তা
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্নাতক হওয়া তরুণ চিকিৎসকদের আগামী দিনের পাথেয় হিসেবে বেশ কিছু পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌपदी মুর্মু। তিনি বলেন, সমাজে চিকিৎসকদের স্থান অনেক উঁচুতে এবং মানুষ তাঁদের ওপর অগাধ আস্থা রাখেন। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শেখার মানসিকতা বজায় রাখতে হবে। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, তা কখনোই মানুষের সততা ও সহমর্মিতার বিকল্প হতে পারে না। তরুণ চিকিৎসকদের উদ্ভাবন এবং গবেষণার দিকে মন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টাই ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যপূরণে সহায়তা করবে।
একঝলকে
- চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে রোগীর সেবা ও তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষা।
- চিকিৎসা পেশায় নৈতিক মূল্যবোধ এবং মানবিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
- দেশজুড়ে নতুন এমস প্রতিষ্ঠার ফলে চিকিৎসা শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটছে।
- স্বাস্থ্য খাতের বৈষম্য ঘোচাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন।
- চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশ গঠনে সুস্থ নাগরিক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ।