শপথ নিতে গিয়েও হোঁচট! নতুন মুখ্যমন্ত্রীর উচ্চারণ নিয়ে আরজেডি-র তীব্র কটাক্ষ: ‘পড়তেই পারছেন না’

বিহারের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হয়েছে। রাজভবনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরীকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান। তবে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সম্রাট চৌধুরীর শপথ পড়ার ধরণ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)।
শপথের শব্দ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় সম্রাট চৌধুরী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ উচ্চারণে হোঁচট খেয়েছেন বলে দাবি করেছে আরজেডি। দলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি ‘অক্ষুণ্ণ’, ‘সম্যক’ এবং ‘সंसूচিত’-এর মতো শব্দগুলো সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। আরজেডির অভিযোগ, যিনি সঠিকভাবে শপথ বাক্যই পড়তে পারেন না, তিনি রাজ্য পরিচালনা করবেন কীভাবে?
বিপক্ষ নেতা তেজস্বী যাদব নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেও বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি। তিনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে, নীতি আয়োগের বিভিন্ন সূচক এবং মানব উন্নয়ন সূচকে বিহার এখনও জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সম্রাট চৌধুরীর উত্থান এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব
৫৭ বছর বয়সী সম্রাট চৌধুরী বিহারে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এর আগে তিনি নীতিশ কুমার সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। তার এই উত্থানের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
- জাতিগত সমীকরণ: সম্রাট চৌধুরী কোইরি (কুশওয়াহা) সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। বিহারে যাদবদের পর এটিই দ্বিতীয় বৃহত্তম অনগ্রসর গোষ্ঠী। তাকে মুখ্যমন্ত্রী করার মাধ্যমে বিজেপি একটি বড় ভোট ব্যাংককে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করেছে।
- রাজনৈতিক উত্তরাধিকার: তার বাবা শকুনি চৌধুরী এবং মা পার্বতী দেবী দুজনেই রাজনীতির পরিচিত মুখ। ১৯৯০ সালে রাজনীতিতে আসা সম্রাট আরজেডি ও জেডিইউ হয়ে ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।
- বিজেপির কৌশল: নীতিশ কুমারের যুগ অবসানের পর বিহারে নিজস্ব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সম্রাট চৌধুরীর ওপর ভরসা রেখেছে বিজেপি ও আরএসএস নেতৃত্ব।
বিহার রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল
নীতিশ কুমারের পদত্যাগ এবং রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর বিহারে এখন সরাসরি বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো। নীতিশ কুমার এই নতুন সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও আরজেডি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে রয়েছে। শপথ গ্রহণের সামান্য ভুলকে জনসমক্ষে বড় করে তুলে ধরে বিরোধী দল আসলে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিহারের ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
बिहार के नए मुख्यमंत्री जी शपथ भी सही ढंग से नहीं पढ़ पाए।
— Rashtriya Janata Dal (@RJDforIndia) April 15, 2026
ऐसे लोग जिन्होंने सदा दूसरों के परिवारवाद, अपराध, शिक्षा को लेकर अपनी सहूलियत के हिसाब से मनगढ़ंत आरोप लगाए, आज उन्हें यह सब एक ही पैकेज और एक ही व्यक्ति में मिल गया।
कहाँ है बिहार के तथाकथित प्रगतिशील, शिक्षित, उच्च… pic.twitter.com/3WE0SwZkMI
একঝলকে
- ঘটনা: বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সম্রাট চৌধুরীর শপথ গ্রহণ।
- বিতর্ক: শপথ পড়ার সময় ‘অক্ষুণ্ণ’ ও ‘সম্যক’ এর মতো শব্দ উচ্চারণে ত্রুটি।
- বিরোধীদের অবস্থান: আরজেডি ভিডিও শেয়ার করে শিক্ষার মান ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
- রাজনৈতিক পরিচয়: সম্রাট চৌধুরী বিহারে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী এবং কোইরি সমাজের প্রভাবশালী নেতা।
- ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ: শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো সূচকে বিহারের উন্নয়ন ঘটানো।