কেকেআরের ৮ কোটির লোকসান! গ্রিনের ফ্লপ শো-তে জলে যাচ্ছে টাকা, এই দামে আসত আরও এক তিলক বর্মা!

কেকেআরের ৮ কোটির লোকসান! গ্রিনের ফ্লপ শো-তে জলে যাচ্ছে টাকা, এই দামে আসত আরও এক তিলক বর্মা!

আইপিএলের মঞ্চে চড়া দামে বিক্রি হওয়া ক্রিকেটারদের ওপর প্রত্যাশার পারদ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। কিন্তু কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা এখন বড় মাপের আর্থিক লোকসানে রূপ নিয়েছে। মাঠের পারফরম্যান্স আর চড়া পারিশ্রমিকের ভারসাম্যহীনতায় কেকেআর শিবিরে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

পারফরম্যান্সের তুলনায় গ্রিনের আকাশচুম্বী মূল্য

চলতি আইপিএল মরসুমে কেকেআর ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫.২০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে দলে ভিড়িয়েছে। টুর্নামেন্টের ১৪টি লিগ ম্যাচের হিসেবে প্রতিটি ম্যাচের জন্য গ্রিনের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির খরচ হচ্ছে প্রায় ১.৮ কোটি টাকা। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এই বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্তি একেবারেই নগণ্য। বিগত ৫টি ম্যাচ শেষে গ্রিনের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার পেছনে ব্যয় করা ৯ কোটি টাকার বিপরীতে তিনি দলকে মাত্র ৯৯.১৪ লক্ষ টাকার সমান অবদান ফিরিয়ে দিতে পেরেছেন। অর্থাৎ, মাত্র ৫ ম্যাচেই কেকেআরের নিট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮.০১ কোটি টাকা।

চেন্নাই ম্যাচে ব্যর্থতার চূড়ান্ত রূপ

চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ম্যাচে ক্যামেরন গ্রিনের পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় হতাশাজনক। গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে তিনি অলরাউন্ডার হিসেবে কোনো ছাপই ফেলতে পারেননি।

  • ব্যাটিং ব্যর্থতা: প্রথম বলেই শূন্য রানে (ডাক) প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।
  • বোলিং বিপর্যয়: উইকেট তো পানইনি, উল্টে খরচ করেছেন ৩০ রান।
  • ভ্যালু অ্যানালাইসিস: ১.৮ কোটি টাকার ম্যাচে কেকেআরের জন্য তার অবদান ছিল কার্যত শূন্য।

লোকসানের অংক বনাম হারানো সুযোগ

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনের পেছনে নষ্ট হওয়া এই ৮ কোটি টাকা দিয়ে নিলাম থেকে তিলক ভার্মার মতো ধারাবাহিক পারফর্মারকে অনায়াসেই দলে নেওয়া যেত। উল্লেখ্য, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের তিলক ভার্মার আইপিএল চুক্তি বা মুকেশ কুমার ও হর্ষল প্যাটেলের মতো ম্যাচ উইনারদের মূল্য এই ৮ কোটির ব্র্যাকেটেই সীমাবদ্ধ। গ্রিন লখনউয়ের বিপক্ষে একটি ম্যাচে কিছুটা ঝলক দেখালেও বাকি চারটি ম্যাচেই চরম ব্যর্থ হয়েছেন। একজন বিদেশি অলরাউন্ডারের পেছনে ২৫ কোটির বেশি বিনিয়োগের অর্থ হলো তাকে একাই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখতে হবে। কিন্তু বর্তমানে তিনি দলের জন্য সম্পপদের বদলে ‘লায়াবিলিটি’ বা বোঝায় পরিণত হয়েছেন।

একঝলকে

  • মোট ক্রয়মূল্য: ২৫.২০ কোটি টাকা।
  • ম্যাচ প্রতি খরচ: ১.৮ কোটি টাকা।
  • ৫ ম্যাচে মোট বিনিয়োগ: ৯ কোটি টাকা।
  • ৫ ম্যাচে অর্জিত পারফরম্যান্স ভ্যালু: ৯৯.১৪ লক্ষ টাকা।
  • নিট আর্থিক লোকসান: ৮.০১ কোটি টাকা।
  • বিকল্প সম্ভাবনা: এই অর্থ দিয়ে তিলক ভার্মা বা মুকেশ কুমারের মতো ক্রিকেটার কেনা সম্ভব ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *