ইতিহাসের পাতায় নতুন মোড়! যুদ্ধ থামিয়ে মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন: শুরু ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি ঐতিহাসিক মোড় তৈরি হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চরম শত্রু দেশ হিসেবে পরিচিত ইজরায়েল এবং লেবানন প্রথমবারের মতো সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে পশ্চিমি বিশ্বের কূটনীতিকরা শান্তি স্থাপনের পথে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আলোচনার মূল লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট
ওয়াশিংটনে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সীমান্ত উত্তেজনা হ্রাস এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এই বৈঠকের বিশেষ গুরুত্ব হলো, লেবানন সরকার সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি আলোচনায় অংশ নিয়েছে।
উভয় পক্ষের অবস্থান
- ইজরায়েলের দাবি: ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইহিয়েল লাইটার মনে করেন, বর্তমানে লেবাননের ওপর হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়েছে। একে লেবাননের জন্য ‘মুক্তির সুযোগ’ হিসেবে দেখছে তেল আবিব। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর দুর্বল হওয়াকে তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে গণ্য করছে।
- লেবাননের দাবি: লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মুওয়াদ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন এবং যুদ্ধের ফলে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের ঘরে ফেরার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
শান্তি আলোচনায় হিজবুল্লাহর বাধা ও হামলা
যখন ওয়াশিংটনে শান্তির পথ খোঁজা হচ্ছে, ঠিক তখনই হিজবুল্লাহ এই আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করে উত্তর ইজরায়েলে ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার এক দিনেই প্রায় ২৪টি হামলা চালিয়েছে তারা। হিজবুল্লাহর এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক পথে সমাধান আসা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্র
গত কয়েক দিনের সংঘর্ষে লেবাননের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। ইজরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২,১২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে। প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। গত সপ্তাহেই মাত্র ১০ মিনিটে ১০০টি বিমান হামলা চালিয়ে ইজরায়েল নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম দুই দেশ মুখোমুখি আলোচনায় বসলেও এখনই পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকাকে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং সেখানে কোনো সশস্ত্র বাহিনী থাকতে পারবে না। অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এখনও বিশ্বাস করেন যে, কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই যুদ্ধের অবসান সম্ভব।
একঝলকে
- ঘটনা: ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ইতিহাসে প্রথম সরাসরি শান্তি আলোচনা।
- স্থান: ওয়াশিংটন, আমেরিকা।
- মধ্যস্থতাকারী: আমেরিকা (বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও)।
- মূল দাবি: লেবাননের পক্ষ থেকে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং ইজরায়েলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বলয় তৈরি।
- ক্ষয়ক্ষতি: লেবাননে ২,১২৪ জনের মৃত্যু এবং ১০ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত।
- হিজবুল্লাহর ভূমিকা: আলোচনার বিরোধিতা করে ইজরায়েলে ২৪টি রকেট ও ড্রোন হামলা।