“একজনের ভুলে কেন বলির পাঁঠা সবাই?” TCS যৌন হেনস্তা মামলায় অভিযুক্তের স্ত্রীর কান্নায় তোলপাড় নাসিক!

মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) ইউনিটে যৌন হয়রানি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া সাতজন কর্মীর মধ্যে একজনের স্ত্রী দাবি করেছেন যে, তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ নির্দার্থ। একজনের ভুলের শাস্তি হিসেবে বাকিদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার নেপথ্যে ব্যর্থ প্রেম ও গুরুতর অভিযোগ
তদন্তে জানা গেছে, এই পুরো ঘটনার মূলে রয়েছে মূল অভিযুক্ত দানিশ শেখ এবং এক নারী সহকর্মীর ব্যর্থ প্রেম। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, দানিশ নিজের বিবাহিত জীবনের তথ্য গোপন করে ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে দানিশের পরিবার এবং সন্তানদের কথা জানতে পেরে ওই নারী পুলিশের দ্বারস্থ হন। দানিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের প্ররোচনার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলেও, পুলিশ এই মামলায় আরও ছয়জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
পরিবারের আর্তনাদ ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
গ্রেফতার হওয়া এক কর্মীর স্ত্রী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, মূল অভিযুক্তের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অন্যদের জীবন ধ্বংস করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন:
- দানিশ শেখের সঙ্গে তাঁর স্বামীর পরিচয় ছিল সামান্যই, অথচ কেন তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হলো তা স্পষ্ট নয়।
- গত ১ এপ্রিল শুধুমাত্র স্বাক্ষরের জন্য তাঁর স্বামীকে ডাকা হয়েছিল এবং বিনা নোটিশে রাতারাতি গ্রেফতার করা হয়।
- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি জানান, তাঁর স্বামী অত্যন্ত নিষ্ঠাবান এবং নিরামিষাশী, তিনি অন্য কারও ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করতে পারেন না।
কো ম্পা নির পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া
এই নজিরবিহীন ঘটনায় টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে ঘটনার যথাযথ তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত কর্মীদের ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছে টিসিএস কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ইন্টারনাল কমপ্লেইন্টস কমিটির (PoSH) সদস্য অশ্বিনী চৈনানীকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা আগেই অভিযোগ জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।
মামলার বর্তমান পরিস্থিতি
পুলিশ এই ঘটনায় মোট ৯টি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হলেও বাকিদের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, আপত্তিকর মন্তব্য এবং শ্লীলতাহানির ধারায় মামলা করা হয়েছে। স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) জানিয়েছে যে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
একঝলকে
- মূল অভিযুক্ত দানিশ শেখের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্মান্তকরণের অভিযোগ।
- মোট সাতজন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে ছয়জনের পরিবারের দাবি তারা নির্দোষ।
- টিসিএস কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।
- অভিযোগ অবহেলার দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন ইন্টারনাল কমপ্লেইন্টস কমিটির সদস্য অশ্বিনী চৈনানী।
- ঘটনায় মোট ৯টি পৃথক এফআইআর দায়ের করে তদন্ত চালাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।