মাছ ভাজার গন্ধে যাদের ধর্ম নষ্ট হয়, তারাই এখন মাছ হাতে ঘুরছে!

মাছ ভাজার গন্ধে যাদের ধর্ম নষ্ট হয়, তারাই এখন মাছ হাতে ঘুরছে!

নববর্ষের প্রচারে ‘মাছ-রাজনীতি’, বামেদের নিশানায় তৃণমূল ও বিজেপি

পয়লা বৈশাখের সকালে রাজ্য রাজনীতির ময়দানে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। নববর্ষের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীদের বড় মাছ হাতে নিয়ে জনসংযোগ করার ছবি এখন নেটমাধ্যমে ভাইরাল। এই ঘটনাকে ‘বাঙালি সাজার ভণ্ডামি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সেলিম দাবি করেছেন, ভোটের স্বার্থে আবেগ নিয়ে এই খেল দেখানোটাই এখন রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজেপির খাদ্য-রাজনীতি ও সিপিআইএমের পাল্টা তোপ
সেলিমের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে বিজেপি নেতা পরেশ রাওয়ালের অতীতে করা সেই বিতর্কিত মন্তব্য, যেখানে মাছ ভাজার গন্ধ নিয়ে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অস্বস্তির কথা বলা হয়েছিল। সিপিআইএম নেতৃত্বের অভিযোগ, যে দল শাসিত রাজ্যগুলিতে মিড-ডে মিল থেকে ডিম সরিয়ে দেওয়া হয় বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনীতি করা হয়, তারাই এখন বঙ্গে ভোটের খাতিরে নাটক করছে। একইসঙ্গে শাসক দল তৃণমূলকেও আক্রমণ করে তিনি জানান, রাজ্যের অরাজকতা ও কর্মসংস্থানের অভাব ঢাকতে এই ধরনের প্রচারের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।

আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সেলিম শিল্প, শিক্ষা ও সংস্কৃতির পুনর্জীবনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। বিভাজনের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আদিবাসী, মতুয়া, রাজবংশী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। এই নতুন রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে বাংলার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনাই বামেদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সেলিম।

এক ঝলকে

  • রাজনীতির রং: নববর্ষের প্রচারে প্রার্থীদের হাতে মাছ নিয়ে ছবি তোলাকে ‘ভণ্ডামি’ বলে তীব্র সমালোচনা মহম্মদ সেলিমের।
  • বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ: একদিকে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিজেপির দ্বিচারিতা এবং অন্যদিকে তৃণমূলের অরাজকাকে ইস্যু করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি।
  • ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ২০২৬ সালের নির্বাচনে শিল্প ও শিক্ষার বিকাশে বাংলার সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে বামপন্থার পুনরুত্থানের ডাক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *