মাঝরাতে হঠাৎ কেন কার্যকর মহিলা সংরক্ষণ আইন, ক্ষুব্ধ বিরোধী শিবির!

মাঝরাতে হঠাৎ কেন কার্যকর মহিলা সংরক্ষণ আইন, ক্ষুব্ধ বিরোধী শিবির!

দেশজুড়ে বিতর্ক: কার্যকর হলো নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, নেপথ্যে ডিলিমিটেশন ও রাজনৈতিক সমীকরণ

সংসদে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিকভাবে কার্যকর করা হলো নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বা ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইন। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী আইনটি ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। আইনসভাগুলোতে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক বিতর্ক
আইনটি কার্যকর হওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হলেও এর তাৎক্ষণিক প্রয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণনার ভিত্তিতে পরবর্তী ডিলিমিটেশন বা সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই সংরক্ষণ প্রক্রিয়া কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়। সংসদে যখন এই সংক্রান্ত সংশোধনীর ওপর বিতর্ক চলছে এবং ভোটাভুটির তোড়জোড় চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিজ্ঞপ্তি জারি করায় বিরোধীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারের এই কৌশলগত পদক্ষেপ আদতে কি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই মহিলা সংরক্ষণ চালু করার একটি ইঙ্গিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছে।

মূলত জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ উন্নীত করা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গেই এই সংরক্ষণ আইনটি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সরকার চাইছে আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে, যা ভবিষ্যতে ভারতের আইনসভার নারী প্রতিনিধিত্বের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে।

এক ঝলকে

  • ২০২৩ সালের নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম কার্যকর করার জন্য ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল দিনটি নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
  • আইন অনুযায়ী লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
  • জনগণনা ও ডিলিমিটেশন বা সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন হওয়ার পরেই এই আইন কার্যকর করা সম্ভব হবে।
  • সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল ছাড়াও আসন পুনর্বিন্যাস বিল ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল নিয়ে বর্তমানে আলোচনা ও ভোটাভুটি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *