পাল্টে গেল স্বাস্থ্য দপ্তরের সিদ্ধান্ত, হাই কোর্টের রায়ে স্বস্তিতে দেবাশিসরা

আরজি কর কাণ্ডের পর থেকে চিকিৎসক আন্দোলনে রাজ্য রাজনীতিতে বারবার উঠে এসেছে দেবাশিস হালদার ও আশফাকুল্লা নাইয়ার নাম। সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তর তাঁদের শহরের বাইরে বদলি করার নির্দেশ দিলে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দুই চিকিৎসক। বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের একক বেঞ্চ সেই বদলির নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছেন, যা আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইনি লড়াই ও আদালতের হস্তক্ষেপ
স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাঁরা শহরের একটি মেডিকেল কলেজে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্য দপ্তর সেই নির্ধারিত হাসপাতালের বদলে তাঁদের অনেক দূরে অন্য হাসপাতালে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন চিকিৎসকরা। আদালত উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর স্বাস্থ্য দপ্তরের সেই পুরোনো নির্দেশটি সম্পূর্ণ বাতিল করার আদেশ দেয়।
প্রশাসনিক প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
এই রায়ের ফলে দুই চিকিৎসক তাঁদের প্রাপ্য যোগ্যতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেডিকেল কলেজেই যোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্দেশ শুধু দুই চিকিৎসকের জয় নয়, বরং স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশাসনিক বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করল। আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে থাকা ব্যক্তিদের ‘টার্গেট’ করার যে অভিযোগ বারবার উঠেছিল, আদালতের এই হস্তক্ষেপ সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এক ঝলকে
- চিকিৎসক দেবাশিস হালদার ও আশফাকুল্লা নাইয়ার বদলির অর্ডার বাতিল করেছে হাই কোর্ট।
- স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে রায় দিয়েছেন বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্র।
- নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত স্কোপ মেনেই সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে কাজ করতে পারবেন তাঁরা।
- এই রায়কে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের একটি বড় নৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।