ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং এনআরসি আতঙ্ক নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং এনআরসি আতঙ্ক নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি

তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ভারতীয় জনতা পার্টির পরিকল্পিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, অত্যন্ত সুকৌশলে নতুন ভোটারদের নাম নিবন্ধনে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তালিকা থেকে নাম ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। মূলত ২০০২ সালের ভোটার তালিকার পরিসংখ্যানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পরিসংখ্যানের বৈষম্য ও গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালের সমীক্ষায় যেখানে প্রায় ৪০ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, সেখানে বর্তমান সময়ে নতুন নাম তোলার প্রক্রিয়া অনেক শ্লথ হয়ে পড়েছে। এবারের আবেদন প্রক্রিয়ায় ৬ লক্ষ মানুষ আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র দেড় লক্ষ আবেদনকারীর নাম নথিবদ্ধ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, বিপুল সংখ্যক মানুষের আবেদন ইচ্ছাকৃতভাবে খারিজ করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আঘাত।

এনআরসি আতঙ্কের পুনরাবৃত্তি ও প্রভাব

ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াকে বিজেপি-র একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক নকশা হিসেবে দেখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এভাবে ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবেই জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে ফের নাগরিকত্ব ইস্যু এবং ভোটাধিকার নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।

এক ঝলকে

  • মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
  • ২০০২ সালের তুলনায় বর্তমানে নতুন ভোটার নিবন্ধনের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমেছে বলে তিনি দাবি করেন।
  • এবারের ৬ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ১.৫ লক্ষ নাম গৃহীত হওয়া নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
  • ভোটার তালিকা থেকে এই নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে এনআরসি-র পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *