হামাসকে কি নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে ভারত? ইজরায়েলি বিদেশমন্ত্রীর নজিরবিহীন আর্জি

হামাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ভারত সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে ইজরায়েল। সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী প্রভাবশালী এবং প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সাথে এক অনলাইন বৈঠকে এই আবেদন পেশ করেন ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডেয়ন সার। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত-ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ নতুন এক মোড় নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সন্ত্রাসবাদী যোগসূত্রের অভিযোগ
ইজরায়েলের দাবি, হামাসের সাথে পাকিস্তান ভিত্তিক লস্কর-ই-তইবা এবং অন্যান্য একাধিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। ইজরায়েলি বিদেশমন্ত্রী বৈঠকে অভিযোগ করেছেন যে, এই সংগঠনগুলো একে অপরের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করে, যা আঞ্চলিক ও বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। মূলত ভারতের দীর্ঘদিনের লস্কর-বিরোধী অবস্থানকে হাতিয়ার করেই হামাসের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জোরালো করার কৌশল নিয়েছে তেল আভিভ।
সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রভাব
ভারত সাধারণত রাষ্ট্রপুঞ্জের নির্দেশিকা অনুসরণ করে কোনো গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করে। তবে ইজরায়েলের এই আর্জির ফলে নয়াদিল্লি এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। যদি ভারত এই অনুরোধ গ্রহণ করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে ভারতের সম্পর্কে যেমন প্রভাব পড়তে পারে, তেমনই সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটবে। ইজরায়েল মনে করছে, ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশের সমর্থন আন্তর্জাতিক স্তরে হামাসকে একঘরে করতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
এক ঝলকে
- হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে ভারত সরকারের কাছে ইজরায়েলের আনুষ্ঠানিক আর্জি।
- পাকিস্তান ভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার সাথে হামাসের গোপন আঁতাতের গুরুতর অভিযোগ।
- প্রবাসী ভারতীয়দের সাথে অনলাইন বৈঠকে এই দাবি পেশ করেন ইজরায়েলি বিদেশমন্ত্রী গিডেয়ন সার।
- ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।