বিড়ি খাওয়ালো, তারপর মদ খেতে বাধ্য করল! ভূত তাড়ানোর নামে তরুণীর সঙ্গে চাঞ্চল্যকর আচরণ

কেরলের এক তরুণীকে ভূত তাড়ানোর নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে ওই তরুণীর ওপর ‘কালো জাদু’র নামে পৈশাচিক অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে স্তম্ভিত স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত যুবক, তার বাবা এবং সংশ্লিষ্ট তান্ত্রিককে গ্রেফতার করেছে।
অমানবিক নির্যাতনের চিত্র
নির্যাতিতা তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই তান্ত্রিক আচার চলে গভীর রাত পর্যন্ত। ওঝার নির্দেশে তাকে জোর করে বিড়ি ও মদ পান করানো হয়। শুধু তাই নয়, তাকে সিঁদুর মিশ্রিত ছাই বা ভস্ম খেতে বাধ্য করা হয়। নির্যাতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে জ্বলন্ত ধূপ দিয়ে তরুণীর শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পৈশাচিক আচরণের ফলে তরুণী এক সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
ঘটনার সময় অভিযুক্তের মা পলাতক থাকলেও পুলিশ প্রধান তিন অপরাধীকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে। তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তার বাবা পুলিশের দ্বারস্থ হলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তথাকথিত ‘অশুভ ছায়া’ দূর করার অজুহাতে এই পরিকল্পিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে নির্যাতিতা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ধরণের ঘটনা সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কারের শিকড় কতটা গভীরে তা পুনরায় প্রমাণ করল। তান্ত্রিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি চলছে এবং এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো চক্র আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
কেরালায় ভূত তাড়ানোর নামে এক তরুণীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
ওঝার নির্দেশে তরুণীকে জোর করে বিড়ি, মদ এবং সিঁদুর মিশ্রিত ছাই খাওয়ানো হয়।
জ্বলন্ত ধূপ দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেওয়ায় তরুণী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বিষয়টি জানাজানি হয়।
পুলিশ তান্ত্রিকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে এবং বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।