ব্যথা কি সাধারণ না কি ডায়াবেটিসের সংকেত! শরীরের তিন জায়গায় যন্ত্রণা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ

শরীরের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অস্বস্তিকে আমরা সাধারণত ক্লান্তি বা বার্ধক্যজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে চলি। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই অবহেলাই হতে পারে প্রাণঘাতী। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্ত শর্করা কেবল একটি রোগ নয়, এটি একটি ‘সাইলেন্ট কিলার’ যা নিঃশব্দে শরীরের স্নায়ু ও রক্তনালী ধ্বংস করতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার আগেই শরীর ব্যথার মাধ্যমে আমাদের বিপদের সংকেত পাঠায়।
স্নায়ুর ক্ষতি ও জয়েন্টের সমস্যা
ডায়াবেটিসের অন্যতম গুরুতর জটিলতা হলো ‘ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি’। এর ফলে হাত ও পায়ের পাতায় ঝিনঝিন করা, সুঁই ফোটানোর মতো যন্ত্রণা বা তীব্র জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। মূলত রক্তে অতিরিক্ত চিনি স্নায়ুর কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ায় এমনটি ঘটে। এছাড়া উচ্চ শর্করার প্রভাবে হাড়ের জয়েন্টে জড়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে কোনো আঘাত ছাড়াই যদি কাঁধ শক্ত হয়ে যায় বা নাড়াচাড়া করতে সমস্যা হয়, তবে তাকে ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ বলা হয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে প্রবলভাবে দেখা যায়।
পেশির টান ও মাড়ির সংক্রমণ
রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং শরীরে খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে রাতে ঘুমানোর সময় পায়ের পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প ধরতে পারে। এটি শরীরে ইনসুলিনের অস্বাভাবিক কার্যকারিতার একটি বড় লক্ষণ। পাশাপাশি উচ্চ রক্ত শর্করা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে মাড়িতে সংক্রমণ, দাঁতের গোড়ায় ব্যথা বা ব্রাশ করার সময় রক্তপাতের মতো সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে।
প্রতিরোধে করণীয়
শরীরে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে ডায়াবেটিস শনাক্ত হলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিনি ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার কমিয়ে প্রোটিন ও ফাইবার যুক্ত খাবার গ্রহণ এবং প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি করলে স্নায়ু ও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় সচেতন না হলে এই সাধারণ ব্যথাগুলো পরবর্তীতে অঙ্গহানি বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের কারণ হতে পারে।
এক ঝলকে
- হাত-পায়ের পাতায় ঝিনঝিন বা জ্বালাপোড়া স্নায়ুর ক্ষতির লক্ষণ।
- কোনো আঘাত ছাড়াই কাঁধ বা হাড়ের জয়েন্টে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা বিপদের সংকেত।
- মাড়ির সমস্যা ও পেশিতে টান পড়া উচ্চ রক্ত শর্করার ইঙ্গিত দেয়।
- দ্রুত রক্ত পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাই সুস্থ থাকার প্রধান উপায়।