বাবার মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে ব্যাংকে গিয়েছিলেন মা ও ছেলে, সেখানে যা জানতে পারলেন তা শুনে দুজনেই হতবাক

বাবার মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে ব্যাংকে গিয়েছিলেন মা ও ছেলে, সেখানে যা জানতে পারলেন তা শুনে দুজনেই হতবাক

বাবার মৃত্যুর পর শোকাতুর পরিবার যখন ব্যাংকের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে যায়, তখন তাদের সামনে উঠে আসে এক রূঢ় বাস্তবতা। ভারতের স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার একটি শাখায় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে গিয়ে মা ও ছেলে জানতে পারেন, প্রয়াত ব্যক্তির নামে ১৮.৫ লাখ টাকার একটি ব্যক্তিগত ঋণ (পার্সোনাল লোন) রয়েছে। যার মধ্যে ১০.৬ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আকস্মিক এই তথ্যে পরিবারটি চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

আর্থিক বোঝা ও আইনি জটিলতা

ভুক্তভোগী যুবক জানান, তিনি পরিবারের একমাত্র আইনগত উত্তরাধিকারী। ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে, এই ঋণের কোনো বিমা করা ছিল না। ফলে নিয়মানুযায়ী এই বিপুল অঙ্কের টাকা তাকেই শোধ করতে হবে। বর্তমানে ঋণের কিস্তি বা ইএমআই বাবদ মাসে ৩৬ হাজার টাকা দাবি করছে ব্যাংক, যা ওই যুবকের মাসিক বেতনের প্রায় ৯০ শতাংশ। বাবার বিয়োগব্যথার মাঝেই এমন বিশাল ঋণের দায় এখন তার জীবনকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

প্রভাব ও সমাধান পথ

ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত বিমা না থাকলে উত্তরাধিকারীদের ওপর দায় বর্তানোর আইনি দিকটি এখানে প্রকট হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার ফলে যুবকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ আইনি পরামর্শ এবং ব্যাংকের সাথে আলোচনা করে কিস্তির পরিমাণ কমানো বা বিশেষ ছাড়ের আবেদন জানানোই এখন একমাত্র পথ। সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

এক ঝলকে

  • বাবার মৃত্যুর পর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে গিয়ে ১৮.৫ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণের তথ্য জানতে পারে পরিবার।
  • ঋণের বিমা না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট ১০.৬ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য একমাত্র উত্তরাধিকারী ছেলেকে চাপ দিচ্ছে।
  • প্রতি মাসে ৩৬ হাজার টাকা কিস্তি ওই যুবকের বেতনের সিংহভাগ কেড়ে নিচ্ছে, যা পরিশোধ করা তার পক্ষে প্রায় আসাম্ভব।
  • শোকের আবহে এমন বিশাল আর্থিক দায়বদ্ধতা মধ্যবিত্ত পরিবারের সুরক্ষায় ব্যাংকিং বিমার গুরুত্বকে পুনরায় সামনে এনেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *