২৬ লাখ টাকা বেতনেও কি সংসার চলে না! আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া

শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বর্তমান যুগে বার্ষিক ২৬ লাখ টাকা বেতন বা প্যাকেজ অনেক ক্ষেত্রে সচ্ছল জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যক্তির শেয়ার করা আয়ের হিসাব সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। আপাতদৃষ্টিতে বিশাল অংকের এই উপার্জন বড় শহরের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ট্যাক্সের চাপে কীভাবে কর্পূরের মতো উড়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিশ্লেষণ।
ব্যয়ের হিসাব বনাম বাস্তবতা
সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, তার আয়ের একটি বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশই চলে যায় আয়কর বা ইনকাম ট্যাক্স মেটাতে। এরপর বেঙ্গালুরুর মতো মেগা সিটিতে থাকার খরচ যোগ করতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয়। আবাসন ভাড়া হিসেবে মাসে গুণতে হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এর বাইরে সন্তানদের পড়াশোনা, যাতায়াত খরচ এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর পর হাতে জমানোর মতো তেমন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ও জীবনযাত্রার মান
এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি এবং বিলাসবহুল পণ্য না হওয়া সত্ত্বেও জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের উচ্চমূল্য। আবাসন ও গাড়ির ইএমআই (কিস্তি) মেটাতে গিয়ে ওই ব্যক্তি আদতে ঋণের চক্রে আটকে পড়েছেন। ফলে উচ্চ বেতন থাকা সত্ত্বেও সঞ্চয়হীন জীবন তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এটি স্পষ্ট করছে যে, শুধুমাত্র বেতনের অংক দিয়ে এখন আর একজন মানুষের প্রকৃত আর্থিক সচ্ছলতা পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
এক ঝলকে
- বার্ষিক ২৬ লাখ টাকা বেতন পেয়েও সঞ্চয়হীন জীবনের কথা জানিয়েছেন এক চাকরিজীবী।
- আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থ সরকার কর হিসেবে নিয়ে নেওয়ায় প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে।
- বড় শহরে আবাসন ভাড়া এবং ইএমআই মেটাতেই বেতনের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়।
- উচ্চ বেতনের চাকরি থাকা সত্ত্বেও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি মধ্যবিত্তের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।