শান্তির পথে বিশ্ববাণিজ্য এবং হরমুজ প্রণালী, অবরোধমুক্ত হওয়ার বড় ঘোষণা

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে নাটকীয় মোড় নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে গোটা বিশ্ব। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রেক্ষাপটে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এই জলপথ দিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই পথ এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ।
বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে স্বস্তি
হরমুজ প্রণালী বিশ্বজুড়ে খনিজ তেল সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। ইরান এই পথ অবরোধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশগুলো, যারা তাদের অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ এই পথ দিয়েই আমদানি করে, তাদের জন্য এই সংবাদটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্রিয় মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে ১০ দিনের এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই স্বল্পমেয়াদি শান্তি চুক্তিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই সাময়িক শান্তি স্থায়ী রূপ পায় কি না এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই জলপথকে বাণিজ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে নিশ্চিত করেছেন।
- অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল হওয়ার এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
- ভারতসহ বিশ্বের প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা আপাতত দূর হলো।