কিউবার আকাশে মার্কিন ড্রোনের দীর্ঘ চক্কর, দানা বাঁধছে নতুন সামরিক অভিযানের রহস্য

কিউবার আকাশসীমায় আমেরিকার নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোনের দীর্ঘকালীন উপস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। জ্যাকসনভিল থেকে ওড়া প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা মূল্যের এই মানুষবিহীন আকাশযানটি কিউবার দক্ষিণ উপকূল ও রাজধানী হাভানার আকাশে টানা ৬ ঘণ্টা ধরে চক্কর দেয়। ফ্লাইট ট্র্যাকারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে কিউবার ওপর এত গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন নজরদারি আর কখনও দেখা যায়নি। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যেকার কূটনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অভিযানের ইঙ্গিত ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা
এই রহস্যময় ড্রোন মিশনের নেপথ্যে পেন্টাগনের বড় কোনও পদক্ষেপের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে, যেখানে তিনি কিউবাকে নিয়ন্ত্রণে আনাকে ‘সম্মানের’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি এবং কিউবায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের তৎপরতা এই গুঞ্জনকে কেবল নিছক জল্পনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখছে না। কিউবার তেল সরবরাহের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টাও এই উত্তেজনার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
ভেনেজুয়েলার ছায়া ও অপারেশন মাদুরো
বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ এই ঘটনাকে কয়েক মাস আগে ভেনেজুয়েলায় ঘটে যাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন। সে সময় একই ধরনের ড্রোন নজরদারির পরই অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার রেশ ধরে এখন কিউবাতেও ‘অপারেশন মাদুরো’-র মতো কোনও নাটকীয় সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘকাল ধরেই কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করে এলেও, কিউবা সরকার একে সরাসরি তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
এক ঝলকে
- আমেরিকার অত্যাধুনিক ড্রোন টানা ৬ ঘণ্টা ধরে কিউবার দক্ষিণ উপকূল ও হাভানার আকাশে নজরদারি চালিয়েছে।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে নিজের সম্মানের লড়াই হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
- ভেনেজুয়েলার আদলে কিউবাতেও বড় ধরনের মার্কিন অভিযানের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
- অত্যাধুনিক রাডার ও সেন্সরযুক্ত এই ড্রোন মিশনের ফলে লাতিন আমেরিকায় নতুন করে অস্থিরতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।