ভোটের বাজারেও লক্ষ্মীলাভ! ২০০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে নয়া রেকর্ড কলকাতা পুরসভার

রাজ্যজুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোল চললেও রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনন্য নজির স্থাপন করেছে কলকাতা পুরসভা। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০০০ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করেছে। প্রশাসনিক চাপ এবং কর্মীদের অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে ব্যস্ততা সত্ত্বেও মোট আদায় পৌঁছেছে প্রায় ২০৭০ কোটি টাকায়, যা গত অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ২১৭ কোটি টাকা বেশি।
আয়ের শীর্ষে সম্পত্তি কর ও দক্ষিণ কলকাতা
পুরসভার রাজস্ব বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে সম্পত্তি কর। মোট ১৩টি ভিন্ন খাত থেকে আয় হলেও শুধুমাত্র সম্পত্তি কর থেকেই গতবারের চেয়ে প্রায় ৪০ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বেশি সংগৃহীত হয়েছে। ভৌগোলিক নিরিখে কর আদায়ে ফের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে দক্ষিণ কলকাতা (সাউথ ডিভিশন)। এই অঞ্চল থেকে সংগৃহীত হয়েছে ৫৫১ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা। তবে শতাংশের নিরিখে বৃদ্ধির দৌড়ে সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছে যাদবপুর (এসএসইউ) ডিভিশন, যেখানে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ১০.৭৫ শতাংশ।
উন্নয়নে গতি ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
এই বর্ধিত আয় পুরসভার আর্থিক মেরুদণ্ডকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই অর্থ মূলত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি কর্মীদের পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়া মেটাতে ব্যবহৃত হবে। তবে সাফল্যের মাঝেও বড় দুশ্চিন্তা রয়ে গিয়েছে শহরের সংযুক্ত অঞ্চলগুলো নিয়ে। বেহালা, কসবা, গার্ডেনরিচ এবং জোকার মতো এলাকায় বহু সম্পত্তি এখনও অ্যাসেসমেন্ট বা মিউটেশনের আওতায় আসেনি। এই বিশাল সংখ্যক সম্পত্তিকে করের কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হলে পুরসভার আয় আরও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কলকাতা পুরসভার মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ২০৭০ কোটি টাকা।
- গত অর্থবর্ষের তুলনায় আয়ের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২১৭ কোটি টাকারও বেশি।
- ৫ ৫১ কোটি টাকার বেশি কর দিয়ে আদায়ের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কলকাতা।
- প্রশাসনিক ব্যস্ততা সত্ত্বেও সম্পত্তি কর ও বিল্ডিং ফি খাতে আদায় বৃদ্ধি এই সাফল্যের প্রধান কারণ।