হাওড়ার হারানো গরিমা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর, বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/mamata-banerjee-supreme-court-election-commission-sir-west-bengal-2026-02-02-10-01-49.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
একসময়ের ‘প্রাচ্যের শেফিল্ড’ হিসেবে পরিচিত হাওড়া জেলার হারানো শিল্প-গৌরব পুনরুদ্ধারের বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রঘুদেবপুর নেতাজি সংঘের মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি দাবি করেন, তৃণমূল সরকার ইতিমধ্যেই জেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উলুবেড়িয়া থেকে সাঁকরাইল পর্যন্ত লজিস্টিক হাব এবং পাঁচলার বিশ্বখ্যাত জরি শিল্পের আধুনিকীকরণের কথা উল্লেখ করে তিনি জেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফেরানোর আশ্বাস দেন।
উন্নয়নের খতিয়ান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আমতা ও বাগনান এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্প উদ্যোগের পাশাপাশি বাণীবনের শাটল কক হাব এবং পাঁচলার জরি শিল্পের জন্য তৈরি পাঁচটি ক্লাস্টারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আইটিআই, পলিটেকনিক কলেজ এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামীণ হাওড়ার সামাজিক ও পরিকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জরি শিল্পীদের আধুনিক যন্ত্রপাতির জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
বিরোধীদের সুর ও পাল্টা সমালোচনা
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির। সিপিএম ও বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, গত দেড় দশকে হাওড়ার বড় শিল্প কলকারখানাগুলি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। নিস্কো, বার্ন স্ট্যান্ডার্ড বা হুগলি ডকের মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র— উভয় সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাম নেতৃত্ব। অন্যদিকে, বিজেপি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের দাবি, জেলায় প্রকৃত কর্মসংস্থানের অভাব থাকায় জরি শিল্পীদের আজও পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
নির্বাচনের মুখে হাওড়ার শিল্পায়ন নিয়ে এই বাকযুদ্ধ জেলার ভোটারদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে শাসক দল যখন ক্লাস্টার ও লজিস্টিক হাবের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা শিল্পাঞ্চলের ভগ্নদশা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে জনমত গড়ার চেষ্টা করছে। এই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- হাওড়াকে ‘প্রাচ্যের শেফিল্ড’ হিসেবে পুনপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর।
- উলুবেড়িয়া ও আমতায় লজিস্টিক হাব এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি।
- বড় শিল্প বন্ধ হওয়া এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে সরব বাম-বিজেপি বিরোধী দলগুলি।
- জরি শিল্প ও ক্লাস্টার সুবিধা নিয়ে তৃণমূল ও বিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র বিবাদ।