“ভোট দেব কীভাবে?” সীমান্ত ঘেঁষা মালদার হাজার হাজার ভোটারের চোখে জল, অনিশ্চয়তায় গণতান্ত্রিক অধিকার

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজলেও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষের চোখেমুখে এখন কেবলই দুশ্চিন্তার ছাপ। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত পাগলা ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তোহিদ্দুরের মতো সরকারি কর্মীরাও এখন দিশেহারা হয়ে ট্রাইব্যুনালের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
কাগজপত্রের জটিলতায় বাদ লক্ষাধিক ভোটার
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নথিপত্রের অসঙ্গতির কারণে মালদার প্রায় ৮ লাখ ২ হাজার ২৮ জন ভোটারের নাম প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পরবর্তীতে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ পুনরায় আবেদন করলেও এখনও প্রায় ৪ লক্ষ ৪১ হাজার ২৪৮ জন ভোটারের নাম তালিকায় ওঠেনি। ১৯শে এপ্রিল শনিবার ছুটির দিনেও মালদার এসআইআর (SIR) সেন্টারে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ১৯৭১ সাল থেকে এ দেশে বসবাস করা নাতাশার মতো প্রবীণ নাগরিকদের দাবি, গত বছরও তারা ভোট দিয়েছেন, কিন্তু এবারের তালিকায় রহস্যজনকভাবে তাদের নাম নেই।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সময়ের সংঘাত
মালদায় আগামী ২৩শে এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ২১শে এপ্রিল রাতের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। হাতে মাত্র কয়েকদিন সময় থাকলেও ট্রাইব্যুনাল প্রতিদিন কতজনের আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারছে, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়ে গেছে। নদীপথে বাংলাদেশের খুব কাছের এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে এত বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনমতের প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নাম সংশোধনের এই ধীরগতির কারণে অনেক প্রকৃত নাগরিকই তাদের সাংবিধানিক অধিকার হারানোয় আশঙ্কা করছেন।
এক ঝলকে
- মালদা জেলায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪.৪১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
- প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় জেলার ১২টি বিধানসভা আসনের লক্ষাধিক ভোটার অনিশ্চয়তার মুখে।
- ২৩শে এপ্রিল মালদায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে, যার চূড়ান্ত তালিকা আসবে ২১শে এপ্রিল রাতে।
- ১৯৭১ সাল থেকে বসবাসকারী এবং সরকারি কর্মীদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে।