জামিন মিললেও স্বস্তি নেই: ১৯৯৬-এর হিংসা মামলায় ১০ দিনের এনআইএ হেফাজতে শাব্বির শাহ

জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সাব্বির আহমেদ শাহর স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলো না। ১৯৯৬ সালের একটি পুরনো সন্ত্রাসবাদী হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। শনিবার জম্মুর একটি বিশেষ আদালত এই ৭২ বছর বয়সী নেতাকে ১০ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে এক জঙ্গির শেষকৃত্য চলাকালীন পুলিশ কর্মীদের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
কারামুক্তি বনাম নতুন আইনি জটিলতা
দীর্ঘ প্রায় সাত বছর কারাবাসের পর সম্প্রতি দুটি পৃথক মামলায় জামিন পেয়েছিলেন সাব্বির শাহ। গত ১২ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট তাকে একটি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন মামলায় জামিন দেয় এবং পরবর্তীতে ২৮ মার্চ দিল্লির একটি আদালত মানি লন্ডারিং মামলাতেও তাকে জামিন প্রদান করে। তবে জেলের বাইরে আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৩০ বছরের পুরনো একটি মামলার ফাইল পুনরায় চালু হওয়ায় তাকে ফের এনআইএ-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এনআইএ-র শ্রীনগর শাখা শুক্রবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে এবং ট্রানজিট রিমান্ডে জম্মু আদালতে হাজির করে।
বিচ্ছিন্নতাবাদ ও নাশকতার অভিযোগ
সাব্বির শাহর বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীরে পাথর নিক্ষেপ, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এনআইএ-র দাবি, তিনি হাওলা এবং সীমান্ত বাণিজ্যের আড়ালে আসা অর্থ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতেন। গত বছরগুলোতে তদন্তকারী সংস্থা বারবার আদালতে জানিয়েছে যে, শাহর মুক্তিতে সাক্ষী প্রভাবিত হওয়ার এবং পুনরায় দেশবিরোধী কার্যকলাপ শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান ১০ দিনের রিমান্ডে তাকে ১৯৯৬ সালের সেই নির্দিষ্ট হামলার পেছনের ষড়যন্ত্র নিয়ে বিস্তারিত জেরা করা হবে।
এক ঝলকে
- ১৯৯৬ সালের পুলিশ কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় সাব্বির শাহ ১০ দিনের এনআইএ রিমান্ডে।
- দীর্ঘ সাত বছর পর সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ও দিল্লি আদালত থেকে দুটি ভিন্ন মামলায় জামিন পেয়েছিলেন তিনি।
- এনআইএ-র অভিযোগ, শাহ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন উসকে দিতে হাওলা ও এলওসি বাণিজ্যের অর্থ ব্যবহার করতেন।
- ৭২ বছর বয়সী এই নেতার বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ও ষড়যন্ত্রের একাধিক অভিযোগ বিচারাধীন।