“বিজেপির পতন শুরু হয়ে গেছে!” মহিলা সংরক্ষণ বিল ব্যর্থ হওয়ায় মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ মমতার

“বিজেপির পতন শুরু হয়ে গেছে!” মহিলা সংরক্ষণ বিল ব্যর্থ হওয়ায় মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ মমতার

লোকসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল পর্যাপ্ত ভোটের অভাবে পতন ঘটায় কেন্দ্র সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি দাবি করেন, এই ব্যর্থতা আসলে বিজেপির রাজনৈতিক পতনের শুরু। মোদী সরকারের এই পরাজয়কে ‘বিজেপির অপমান’ হিসেবে বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বিজেপি এখন অন্যের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে আছে।

পরাজয়ের গাণিতিক বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

সংবিধান অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মহিলা সংরক্ষণ বিলটি পাসের জন্য লোকসভায় ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে যায় ২৩০টি ভোট। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে মোদী সরকারের নৈতিক পরাজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সরকার পক্ষ যে যথেষ্ট নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে, এই বিলের পতনই তার বড় প্রমাণ। এর ফলে কেন্দ্রের বর্তমান নেতৃত্ব যে চাপের মুখে রয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রীর আজকের জাতির উদ্দেশে ভাষণ প্রদানের সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মমতার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ও তৃণমূলের অবস্থান

নিজের দলের কৃতিত্ব তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূলে ইতিমধ্যেই লোকসভায় ৩৬ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ মহিলা সংসদ সদস্য রয়েছেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার পাঠ নিতে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে দাবি করেছেন যে, তৃণমূল নেত্রী আসলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনপ্রিয়তাকে ভয় পাচ্ছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

এক ঝলকে

তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তাঁর দলে ইতিমধ্যেই নির্ধারিত কোটার চেয়ে বেশি শতাংশ মহিলা সংসদ সদস্য প্রতিনিধিত্ব করছেন।

লোকসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোট না পাওয়ায় বিলটি বাতিল হয়ে গেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ব্যর্থতাকে বিজেপির পতনের শুরু এবং মোদী সরকারের জন্য চরম আসাম্মানজনক বলে দাবি করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিজেপি বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে অন্য দলের সমর্থনে ক্ষমতায় টিকে আছে এবং এই ‘সহারা’ যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *